ভুয়া নির্বাচনে সরকার সংসদকে কুক্ষিগত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন মঈন খান। তিনি বলেছেন, ‘এই সরকার তারা সমস্ত সংসদকে নিজেদের ইচ্ছামতো কুক্ষিগত করে নিয়েছে এই ভুয়া প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে এবং এটা আজকে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে ৭ জানুয়ারি কোনো নির্বাচন হয়নি।’
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এই অভিযোগ করেন।
মঈন খান বলেন, ‘আজকে জাতীয় সংসদের ৩০০ সিটের মধ্যে ২৯৯ সিটে কে বিজয়ী? কে পরাজিত সেগুলো নির্বাচনে নির্ধারিত হয় নাই। এগুলো সব নির্ধারিত ঢাকার সর্বোচ্চ একটি টেবিলে, সেখানে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আগেই নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে কে কত ভোট পাবে, কে কত শতাংশ ভোট পাবে এবং কোন সিট থেকে কে নির্বাচিত হবে। এটা আর এখন আমাদের কথা নয়, দেশে-বিদেশে সমস্ত প্রমাণসহ আজকে এটা বিশ্ববাসীর কাছে উদ্ভাসিত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এই সরকারের সবচেয়ে দুঃখজনক, লজ্জাজনক, কলঙ্কজনক বিষয় হচ্ছে এই যে মানুষ ভোট চুরি করে গোপনে। এই সরকার ভোট ডাকাতি করেছে প্রকাশ্যে।
তারা প্রকাশ্যে আলোচনা করেছে, সিট ভাগাভাগি করেছে। কে কোন সিটে নির্বাচিত হবে সেটা নির্ধারণ করেছে প্রকাশ্যে’।
৫৭ দিন পর সকালে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রধান গেটে তালা-চাবি পুলিশ থেকে না পেয়ে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। গত ২৮ অক্টোবর এই কার্যালয়ের সামনে মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ার পর পুলিশ কার্যালয়ের নেতাকর্মীদের বের করে তালা দিয়ে চাবি নিয়ে যায়।
বিকেল ৩টায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন।
সংবাদ সম্মেলনে গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৭ জানুয়ারি ভোট কারচুপির ওপর দলের তৈরি সচিত্র তথ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয়। সেখানে কিভাবে ভোট কারচুপি করা হয়েছে, কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে সিল মারা হয়েছে, ভোটারবিহীন কেন্দ্রে সরকার দলীয় লোকজন কিভাবে ভোট বাক্সে ব্যালট পেপার ঢুকিয়েছে ইত্যাদি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অপতৎপরতা এবং দেশি-বিদেশি মিডিয়ায় প্রচারিত ও প্রকাশিত রিপোর্ট তুলে ধরা হয়।
মঈন খান বলেন, ‘দীর্ঘ ৫৭ দিন পর আমাদের নয়াপল্টনের অফিস খোলা হয়েছে। আপনারা জানেন, ২৮ অক্টোবরের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসটি সরকার বেদখল করে নিয়েছিল। আজকে আমরা এখানে এসেছি জনগণের কথা বলার জন্য।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি একটি উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী। আমাদের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেছেন, জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস, আমরা জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাসী। সেই কারণে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আছি। যেভাবে একদিন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এবং যেভাবে একদিন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ দেশে পার্লামেন্টারি গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দেশের মানুষের কাছে এবং বিশ্ববাসীর কাছে ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে এটা প্রমাণিত যে এই সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, সরকার যেটাতে বিশ্বাস করে সেটা হচ্ছে একদলীয় বাকশালী শাসন। আমরা অতীতে বলেছি, এটা হচ্ছে অলিখিত বাকশাল। আজকে নির্বাচনের পরে যা দাঁড়িয়েছে সেটা অলিখিত বাকশাল ওয়ান।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী. চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, জয়নুল আবদিন ফারুক, ফজলুর রহমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, আবদুস সালাম আজাদ, শিরিন সুলতানা, মীর নেওয়াজ আলী, সেলিম রেজা হাবিব, তাইফুল ইসলাম টিপুসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।