তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মাহমুদ ফয়সালকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার গোদনাইল বাগপাড়াস্থ বসতবাড়িতে হামলা চালিয়েছে ফ্যাসিস্ট আ.লীগের দোসর সিদ্ধিরগঞ্জের মূর্তমান আতঙ্ক ও কিশোরগ্যাং এর সেল্টারদাতা ড্রেজার সন্ত্রাসী দেলু ভুইয়ার প্রেরিত কিশোরগ্যাং। হামলায় কিশোরগ্যাং ধারালো অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে। ভাংচুর করে ফয়সালের বাড়ীর জ¦ানালার গ্লাসসহ আসবাবপত্র। ঘটনাটি গত মঙ্গলবার ইশার নামাজের পর ঘটে। এ ঘটনায় আ.লীগের দোসর কিশোরগ্যাং এর সেল্টারদাতা ড্রেজার সন্ত্রাসী দেলু ভুইয়াকে প্রধান আসামী করে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২০/২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি করেছেন ফয়সালের ছোট ভাই রায়হাতুল মাহমুদ। গতকাল বুধবার (১১ মার্চ) তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এ মামলা দায়ের করেন। এদিকে ফয়সালের বাড়ীতে হামলা এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগের পর রাতেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি’র নেতৃত্বে ড্রেজার সন্ত্রাসী দেলু ভুইয়ার বাড়ীতে অভিযান চালায়। কিন্তু সেই সময় কোন আসামী না থাকায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি জানান।
তেল চোর থেকে কিশোরগ্যাং সেল্টারদাতা দেলু ভুইয়া:
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সিদ্ধিরগঞ্জের বর্তমান মূর্তমান আতঙ্ক দেলু ভুইয়া প্রথমে জ¦ালানী তেল সংগ্রহ করতো ডিব্বা দিয়ে। এই তেল চুরি থেকে শুরু হয় তার উত্থান। এ সময় সম্পর্ক হয় অনেক বাঘাবাঘা তেল চোরের সাথে। এরপর দেলুকে পিছরে তাকাতে হয়নি। শুরু হয় টাকা কামানো। তেলের টাকায় হয়না। আরো টাকার দরকার। শুরু করে বালু ব্যবসা। ফ্যাসিস্ট আ.লীগের নেতাদের সাথে সুসম্পর্ক করে দীর্ঘ সতের বছর ড্রেজার ব্যবসা করে এই দেলু ভুইয়া। এ সময় কারাগারে থাকা মতি ও পলাতক খোকনের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলে। মতি ও খোকনের হাত ধরে বালু ব্যবসায় হাতিয়ে নেয় প্রচুর টাকা। তেল চুরি আর বালু ব্যবসার মাধ্যমে টাকা কামিয়ে কুমির হয়ে যায় দেলু ভুইয়া। গড়ে তুলে কিশোরগ্যাং। যার নেতৃত্ব প্রদান করে দেলু ভুইয়ার সন্ত্রাসী ছেলে ইরফান ভুইয়া। কিশোরগ্যাংদের টাকা পয়সা আর অস্ত্র দিয়ে শেল্টার দেয় ইরফান ভুইয়ার পিতা ড্রেজার সন্ত্রাসী দেলু ভুইয়া। দেলুর ভুইয়ার সেল্টারে থাকা কিশোরগ্যাং এর কারনে সিদ্ধিরগঞ্জে গোদনাইল এলাকায় মূর্তমান আতঙ্ক আজ দেলু ভুইয়া। ফ্যাসিস্ট আ.লীগের লোক হয়ে আজ প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করছে। এখনো সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ড্রেজার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। কৃষকদলের নেতার বাড়ীতে হামলার চালিয়ে প্রমান করেছে দেলু ভুইয়া অপ্রতিরোধ্য। যা সিদ্ধিরগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠে। কিশোরগ্যাংদের হাতে এতো অস্ত্র আসলো কোথা থেকে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ব্যাপারে অনেকে অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সতের বছর মতির সাথে দেলু ভুইয়ার সম্পর্ক থাকার কারনে মতি কারাগারে থাকলেও সেময় তার লোকজনের কাছে থাকা বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র এখন ড্রেজার সন্ত্রাসী দেলু তার ছেলে ইরফান ভুইয়ার কাছে রক্ষিত আছে। সেই রক্ষিত অস্ত্র আজ কিশোরগ্যাং লোকজন ব্যবহার করছে। এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এদের নিয়ন্ত্রন না করলে সামনে আরো বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটতে পারে বলে এলাকাবাসী জানায়।
দেলু ভুইয়া ও কিশোরগ্যাং গ্রেফতারের দাবী:
ফয়সালের বাড়ীতে হামলার ঘটনায় কেন্দ্রিয় কৃষকদল নেতারা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। হামলাকারীদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন কেন্দ্রিয় নেতারা। গতকাল এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এই দাবী জানানো হয়। এদিকে ফয়সালের বাড়ীতে হামলার ঘটনায়
দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া ওরফে দেলু ভুইয়াকে প্রধান আসামী করে মামলা করা হয়েছে। মামলার আসামীদের গ্রেফতারে বুধবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করলেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন, ইরফান ভূইয়া (২৭), ইয়ার হোসেন ভূইয়া (৫৮), ইমন ভূইয়া (২৫), মেজবা ভূইয়া (৩১), আক্তার হোসেন ভূইয়া (৩৫), ফয়সাল ভূইয়া (৩০), রেজাউল করিম (৪৮), শিমুল হোসেন গিট্টু (২৯), মনির ভূইয়া (৪৭), আলাল ভূইয়া (৩৮), তৌহিদ ভূইয়া (৪০), জনি হোসেন (৩০), মনির ওরফে সুটার মনির (৪০), সোহেল (২৮), আলাউদ্দিন (৩৫), মো. ফারুক (৫২), মৌসুমী ভূইয়া (৫০), সিনহা আফরিন ভূইয়া (২২) সহ অজ্ঞাত আরও ২০/২৫ জন। মামলায় বলা হয়, সজীব কাজী নামে কৃষকদল নেতা সাইফুদ্দিন মাহমুদ ফয়সালের এক রাজনৈতিক সহযোগীকে পূর্ব শত্রুতার জেরে মঙ্গলবার দুপুরে মারধর করে আসামিরা। খবর পেয়ে ফয়সাল সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এর জের ধরে রাতে আসামিরা ফয়সালের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় হামলাকারীরা মামলার বাদি রায়হাতুল মাহমুদকে মারধর করে আহত করে বলে অভিযোগ করা হয়। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মাহমুদ ফয়সাল বলেন, আসামিরা সবাই আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের দোসর। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে জুলাই মাসের হত্যা মামলাও রয়েছে। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, কৃষকদল নেতার বাড়িতে হামলার ঘটনায় একটি মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ