মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে গোপন সালিশের মাধ্যমে ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে বিচারের প্রহসন করায় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার কলমা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে স্থানীয়রা। অভিযুক্ত ব্যক্তি হচ্ছেন কলমা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মমিনউদ্দিন দোকানদার হিরণ। যিনি এলাকায় হিরণ দোকানদার নামে পরিচিত। বিক্ষোভকারীরা বিচারের নামে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবাকে ডেকে হুমকির অভিযোগে হিরণ দোকানদারের শাস্তি ও তার সদস্যপদ বাতিলের দাবি করেছেন।
স্থানীয় ও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মঙ্গলবার উপজেলার বাশিরা গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে (১৬) টাকার লোভ দেখিয়ে পাশের ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে আল মামুন ফরাজী (৫৫) নামের এক রাজমিস্ত্রি। এ সময় কিশোরীর মা-বাবা বাড়িতে ছিল না। তারা এক আত্মীয়ের মৃত্যুর খবর শুনে পাশের গ্রামে গিয়েছিল। এলাকাবাসী টের পেয়ে প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে উদ্ধার করে টঙ্গীবাড়ি উপজেলার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযুক্ত আল মামুন ফরাজী এ সময় পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কলমা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিরণ দোকানদার ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবাকে তার বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে অভিযুক্ত মামুন ফরাজীর পক্ষ নিয়ে হিরণ দোকানদার তার অনুগত লোক দিয়ে গোপন সালিশ বসান। সালিশে ভুক্তভোগীর রিকশাচালক বাবাকে ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে ধর্ষণের বিষয়টি মিমাংসার প্রস্তাব দেন। এতে ভুক্তভোগীর বাবা রাজি না হলে তাকে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন সালিশকারীরা।সালিশের ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
এদিকে গত বুধবার রাতে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে অভিযুক্ত আল মামুন ফরাজীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পরদিন বৃহস্পতিবার পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় আল মামুন ফরাজীকে আটক করে মুন্সীগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।
বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, ধর্ষণের মতো বিচারের এখতিয়ার কোনো জনপ্রতিনিধির নেই জানা সত্ত্বেও হিরণ দোকানদার আইন লঙ্ঘন করেছেন। এ ছাড়া তিনি ভুক্তভোগীর বাবাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়েছেন। বিক্ষুব্ধ জনতা আসামী আল মামুন ফরাজীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও প্যানেল চেয়ারম্যান হিরণ তালুকদারের ইউপি সদস্য পদ থেকে অপসারণের দাবি করেছেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন কিশোরীবাবা বাবা শাহআলম আনাস রুবেল শেখ, মকবুল হোসাইন, মো. সজীব, মো. নাহাল, রিয়াদ খান, প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে পলাতক ইউপি সদস্য হিরণ দোকানদারকে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।#
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ