শহরের তল্লা ও হাজীগঞ্জ রোললাইন এলাকায় পাইকারী ফেনসিডিল, ইয়াবা ও গাঁজা এবং দেহ ব্যবসা জমজমাট। এত করে এলাকার যুব সমাজ ধ্বংসের পথে, তদন্ত পৃর্ব ব্যবস্তা নিতে প্রসাশনের প্রতি জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। মাদক কারবারি, সন্ত্রাস ও এলাকার চিহ্নিত ত্রাস একাধিক হত্যা মামলার আসামী ক্রসফায়ারে নিহত মাস্টার দেলুর প্রধান সহযোগী জেলে থাকা পাপ্পু, ছোট ভাই শশী, বড় বোন মিতু ও ছোট বোন ছন্দা সর্ব পিতা এক সময়ের তল্লা এলাকার মাদক সমাট্র গাঁজা ব্যবসায়ী মৃত: কাজী মাহাবুব পরিবার ফতুল্লা থানার তল্লা ও হাজিগঞ্জ এলাকার এক ভয়ংকর মাদক সিন্ডিকেটের লিডার ও দেহ ব্যবসার নামে ব্ল্যাকমেইলিং হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। জানা যায়, তল্লা ও হাজীগঞ্জ এলাকার কেউ মাদক কারবারের ও দেহ ব্যবসার বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করলে, তাদের দুই বোনের সাথে অসাধু পুলিশের শারীরিক সম্পর্ক থাকায় পুলিশ দিয়ে হয়রানী, আর পুলিশ দিয়ে কিছু করতে না পারলে সরাসরি হত্যার উদ্দেশ্যে অতর্কিত হামলা চালায় এই পরিবারের সদস্যরা যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক।অভিযোগ রয়েছে, মৃত: কাজী মাহাবুব পরিবারে দুই মেয়ে বড় বোন ও ছোট বোন ছন্দা ভিডিও কলে প্রবাসীদের কথার জালে ব্ল্যাকমেইল করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে রয়েছে মিতু ও ছন্দার নামে।এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী শশী (পিতা: মৃত কাজী মাবাবুব) বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে ৪ ভাই বোন মিলে বাবার রেখে যাওয়া মাদক ব্যবসা ধরে রাখার জন্য পুলিশদের সাথে সখ্যাতা রেখে এলাকায় এখন দেহ ব্যবসা ও ব্ল্যাকমেইলিং শুরু করেছে এই পরিবার। উল্লেখ্য, এর আগেও মাদক নির্মূল অভিযানে তারা গ্রেফতার হয়েছিল। তবুও রহস্যজনক কারণে তারা পুনরায় এলাকায় সন্ত্রাস, মাদক ও দেহ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে যা জনমনে প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।জানা গেছে, মিতু আক্তারের নেতৃত্বে চক্রের অন্য সদস্যরা বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে। তাদের টার্গেট ব্যক্তির সব ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে পরিবারের সব সদস্যকে জানিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে পাঁচ লাখ থেকে শুরু করে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করে।এলাকাবাসী জানান, ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের টার্গেট করে বাড়ীতে এনে ব্ল্যাকমেইলিং করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই দুই বোন। যুবক বয়সের লোকজনই তাদের মূল টার্গেট। চক্রের ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার ২০-২৫ জনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। এই চক্রকে সমূলে উৎপাটনের পাশাপাশি এদের পৃষ্ঠপোষকদেরও আইনের আওতায় আনাতে হবে বলে জানান এলাকাবাসী।
ব্ল্যাকমেইলিংয়ের কৌশল:
প্রথমে টার্গেট করা ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে বড় বোন মিতু। এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তির পরিবারকে সব জানিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করে ছোট বোন ছন্দা। নানা অজুহাতে টার্গেট করা ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে। অনেক সময় ব্যক্তিগত স্পর্শকাতর বা গোপন কথা বলে তা মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে।টার্গেট করা ব্যক্তির সঙ্গে মিতুর বিয়ে হয়েছে এমন কথা পরিবারের সদস্যদের জানানোর হুমকি দেয়া হয়। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মিতুর ছোট বোন ছন্দা টার্গেট করা ব্যক্তিকে ফোন করে মামলার হুমকি দেয়। অনেকেই সম্মানের ভয়ে দাবিকৃত টাকা দিয়ে দেন। তবে কেউ দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের লোক আইনজীবী পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তিকে ফোন করে মিথ্যা ও বানোয়াট ধর্ষণ মামলা বা নারী নির্যাতন মামলা করার হুমকি দেয়। এমনকি শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী টার্গেট করা ব্যক্তিকে ফাঁসানোর জন্য নামকরা চিকিৎসকদের কাছে গিয়ে পেসক্রিপশনে স্বামীর নাম অপশনে ওই ব্যক্তির (টার্গেট) নাম লিখে আনে মিতু। তদন্ত পৃর্বক ব্যবস্তা নিতে প্রসাশনের প্রতি জোর দাবী এলাকাবাসীর।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ