সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন নাসিক ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের ঘাটি হিসেবে পরিচিত ছিলো। ফ্যাসিস্ট আ.লীগের আমলে পুরো নারায়ণগঞ্জের নজর নাসিক ৬নং ওয়ার্ডে ছিলো। এই ৬নং ওয়ার্ড থেকে আ.লীগের সাবেক এমপি ও মেয়র প্রার্থীরা পূর্বে তাদের প্রথম নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করতো। নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বড় বড় জনসভা সফল করতে আ.লীগের নেতাকর্মীরা নাসিক ৬নং ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের দিকে তাকিয়ে থাকতো। নাসিক ৬নং ওয়ার্ড থেকে আ.লীগের নেতাকর্মীরা গেলে তাদের দ্বারা আ.লীগের জনসভা ও কর্মসূচী সফল হতো। চব্বিশের ৫ আগষ্ট পরবর্তী ফ্যাসিস্ট আ.লীগ পালিয়ে গেলে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায় আ.লীগ। শক্তিশালী হয়ে উঠে বিএনপি। অন্যান্য এলাকার ন্যায় নাসিক ৬নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতাকর্মীদের ঘাটি গড়ে তুলে। কিন্তু এখানে ছিলো কোন্দল চরমে। ছিলো একাধিক গ্রুপ। অবশেষে না.গঞ্জ জেলা বিএনপি’র আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের কঠোর হস্তক্ষেপে এবং যুগ্ন-আহবায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজিবের দুরদর্শিতার কারনে সেই কোন্দলে পানি ঢেলে দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি’র মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানকে বিজয়ী করতে এই ঐক্যের ডাক দিয়েছেন অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ও মাশুকুল ইসলাম রাজিব। নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিকদলের আহবায়ক এসএম আসলামকে আহবায়ক করে গঠন করা হয় নাসিক ৬নং ওয়ার্ডের নির্বাচন পরিচালনা করিটি। যেখানে সকল গ্রুপের লোকদের ঐক্যবদ্ধ করে মান্নানের মার্কা ধানের শীষকে বিজয়ী করার দায়িত্ব দেয়া হয়। সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে শুরু করেছেন এসএম আসলাম। গতকাল ধানের শীষ প্রার্থী মান্নানের নির্বাচনী প্রচারনা ও পথ সভায় সকলকে নিয়ে আ.লীগের ঘাটিতে ধানের শীষের চমক দেখিয়েছেন। দীর্ঘদিন পর নির্বাচনী হাওয়া লাগিয়ে দিয়েছেন নাসিক ৬নং ওয়ার্ডে। যেখানে অংশগ্রহন করেন সকল গ্রুপের পক্ষে এসএম আসলাম, অকিল ভুইয়া, শাহ-আলম মানিক, মনির হোসেন, বিহারী কলোনীর লোকজন, ব্যবসায়ী নেতা সামাদ মাহমুদ, কৃষকদল নেতা ফয়সাল মাহমুদ, দর্জি সেলিম সাবেক ছাত্রদলের নেতারা, যুবদলের আক্তারুজ্জামান মৃধাসহ অনেকে। গতকাল ২ ফেব্রুয়ারী সোমবার নাসিক ৬নং ওয়ার্ডে এবং ১০নং ওয়ার্ডে ধানের শীষ প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের নির্বাচনী প্রচারনা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ২টা থেকে নাসিক ৬নং ওয়ার্ডে চলে মান্নানের পথ সভা ও মিছিল। পথ সভায় ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী মান্নান উপস্থিত ছিলেন। পথ সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুগ্ন আহবায়ক সাবেক ছাত্রনেতা মাশুকুল ইসলাম রাজিব। নির্বাচনী পথসভা জেলা বিএনপি’র কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে আদমজী বিহারী কলোনী, সুমিলপাড়া, আইলপাড়া, এসও, বার্মাষ্ট্যান্ড হয়ে নাসিক ১০নং ওয়ার্ডে চলে যায়। নির্বাচনী পথ সভা সফল করতে ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, শ্রমিকদল, তাতীদল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিল নিয়ে যোগদান করেন মান্নানের প্রধান পথসভায়। রাস্তায় দাড়িয়ে থাকা শত শত মহিলা সমর্থকরা মান্নানকে ফুলের মালা দিয়ে এবং ফুল ছিটিয়ে সংবর্ধনা জানান। যেখানে এক সময় পতিত শামীম ওসমান ও কারাগারে থাকা সাবেক মেয়র আইভীকে ফুলের তোড়া এবং পাপড়ি ছিটিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়েছিলো আজ সেখানে বিএনপি’র ধানের শীষের প্রার্থীকে জানানো হয়েছে স্বাগতম। সিদ্ধিরগঞ্জের অন্যান্য ওয়ার্ডেও আ.লীগ ছিলো। কিন্তু নাসিক ৬নং ওয়ার্ডে আ.লীগের জনপ্রিয় নেতাকর্মী একটু বেশী ছিলো। ছিলো শামীম ওসমান ও আইভীর কাছের লোক। তাই সকল দলের কাছে ৬নং ওয়ার্ড একটু বেশী গুরুত্বপূর্ণ। এখানে রয়েছে ইপিজেড, রয়েছে র্যাব কার্যালয়, রয়েছে বিদ্যুৎ ও ঔষধ কোম্পানী। রয়েছে দুইটি তেলের ডিপো। তাই এই ওয়ার্ডের দিকে নারায়ণগঞ্জের সকল দলের রাজনৈতিক নেতাদের নজর একটু বেশী। আর সকল দিক বিবেচনা করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র কার্যালয় এই ওয়ার্ডে স্থাপন করা হয়েছে। আজ এই ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচারনা করেছে ধানের শীষের প্রার্থী। অন্যান্য ওয়ার্ডের নির্বাচনী প্রচারনা হচ্ছে। কিন্তু এই ওয়ার্ডের নির্বাচনী প্রচারনা একটু বেশী আলোচিত হয়েছে। পথসভার আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ধানের শীষ প্রার্থী মান্নান বলেন, “বিএনপিকে বিজয়ী করে দুঃশাসন দূর করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ করে দেবেন। রাষ্ট্রগঠনে আমাদের নেতা তারেক রহমান যে পরিকল্পনা করেছেন, তা বাস্তবায়ন করতে হলে বিএনপিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করতে হবে। বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের উন্নয়ন, নারী অগ্রাধিকার ও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তার সুযোগ-সুবিধা শুধু নারীরাই নয়, সবাই পাবে।” মান্নান আরও বলেন, “আমরা সবাই এই দেশের নাগরিক, এই দেশের ভোটার। সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই। তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, মুসলিম সবাই এক। কোনো ভেদাভেদ নেই। আপনাদের সম্পদ দখল করেছে আওয়ামী লীগ। বিএনপির লোকজন করেনি। আমার সোনারগাঁয়ে কোনো বিএনপির লোক আওয়ামী লীগের এক শতাংশ জমিও দখল করেনি। ৫ আগস্টের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে একটিও আঁচড় লাগেনি। দুর্গাপূজায় আমাদের বিএনপির নেতাকর্মীরা আপনাদের সহযোগিতা করেছে।”
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ