নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রাজপথের পরীক্ষিত ও নির্যাতিত রাজনীতিতে ক্লীন ইমেজের রাজনীতিক অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নাসিক ৬নং ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য রুহুল আমীন মিন্টু। গতকাল গনমাধ্যমে প্রেরিত এক অভিনন্দন বার্তায় নাসিক ৬নং ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিন্টু এই অভিনন্দন জানান।
অধ্যাপক মামুন মাহমুদ সম্পর্কে যুবদল নেতা রুহুল আমীন মিন্টু বলেন, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। আন্দোলন-সংগ্রামের সময় হামলা, লাঠিচার্জ, গ্রেপ্তার ও একাধিক মামলার মুখোমুখি হলেও তারা দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে সরে দাঁড়াননি। বর্তমানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ প্রায় ৪৪ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ছাত্রদল থেকে রাজনৈতিক জীবনের শুরু। এরপর যুবদল, ওয়ার্ড, থানা, মহানগর ও জেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যও হয়েছেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে জেলার শীর্ষ নেতৃত্বে জায়গা করে নিয়েছেন। ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক হিসেবেও তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির রাজনীতির কারণে একাধিকবার গ্রেপ্তার হন মামুন মাহমুদ। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে হামলা, লাঠিচার্জ ও মারধরের শিকার হয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক হয়রানিমূলক একাধিক মামলারও আসামি হতে হয়েছে তাকে। ১৯৯৭ সালে প্রথমবার কারাভোগ করেন তিনি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর গত ১৫ বছরে তার বিরুদ্ধে নাশকতা, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও হেফাজত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৩৬টির বেশি মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেলেও কারাগারের সামনে থেকেই আবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২২ সালে রাজনৈতিক কারণে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যাচেষ্টার ঘটনাও ঘটে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন মামুন মাহমুদ। তবে দলীয় সিদ্ধান্তে বর্তমান সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান মনোনয়ন পাওয়ায় তিনি তা মেনে নিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। রাজপথের পরীক্ষিত নির্যাতিত ও ক্লীনম্যান ইমেজের নেতা অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োগ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে পরীক্ষিত নেতাদের প্রতি আস্থার বহিঃপ্রকাশ বলেই জেলা বিএনপি মনে করে। মামুন মাহমুদকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক নিযুক্ত করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আশা করছি, নতুন প্রশাসকের হাত ধরে জেলা পরিষদের কার্যক্রম গতিশীল হবে এবং নারায়ণগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নে তিনি সবাইকে নিয়ে কাজ করবেন। আমি তার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করছি। এদিকে গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে জেলা পরিষদে গিয়ে প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর মামুন মাহমুদ গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, “জেলা পরিষদকে আমি জনমানুষের সেবায় নিয়োজিত একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই। এই প্রতিষ্ঠান হবে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান। শুধু ফতুল্লা নয় সমগ্র নারায়ণগঞ্জের যতগুলো ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, গ্রাম, পিছিয়ে পড়া জায়গা রয়েছে, যেখানে বৈষম্যের শিকার হয়েছে, উন্নয়নের ছোঁয়া পড়ে নাই সেই সমস্ত জায়গা আমি খুঁজে বের করব। অবকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে, সেখানকার সেবামূলক প্রতিষ্ঠান স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়নে কাজ করব। সেই পরিকল্পনা নিয়েই আমি এখানে বসেছি।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ