মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও বাজার সড়কে যত্রতত্র যানবাহন পার্কিংয়ে জনদুর্ভোগ।
মুন্সীগঞ্জের তিন উপজেলার মোহনা হিসেবে পরিচিত অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র বালিগাঁও বাজার। সপ্তাহে দুই দিন (শুক্র ও সোমবার) হাট সহ প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে এই বাজারে। বর্তমানে বাজারের প্রধান সড়ক দিয়ে যাতায়াতে মানুষের জন্য ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। যত্রতত্র অটোরিক্সা পার্কিং, ফুটপাথ দখল এবং রাস্তার ওপর ট্রাক থামিয়ে মালামাল লোড-আনলোডের কারণে এখানে যানজট এখন নিত্যদিনের চিত্র।
মাওয়া-টঙ্গীবাড়ি-মুন্সীগঞ্জ প্রধান সড়কে ডহরি-তালতলা খালের ওপর প্রায় ১৮ কোটি টাকায় বায়ে ৯৮ মিটার দীর্ঘ বালিগাঁও সেতু নির্মাণ করা হলেও এর পুরো সুফল পাচ্ছে না বাইপাস সড়ক না থাকায়। এই পথে যাতায়াতকারীরা জানিয়েছেন, বালিগাঁও সেতুর থেকে নামে বালিগাঁও বাজার সড়ক দিয়ে না গিয়ে বিকল্প বায়পাস সড়ক থাকলে যানজট ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যেতো। কলমার রাস্তার মোচর থেকে আড়িয়ল হয়ে বলই দিয়ে রাস্তাটি প্রশস্ত করে বের করে আনা সম্ভব হলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বালিগাঁও বাজার এলাকায় জটলা লেগেই থাকে। বিশেষ করে কোর্ট-কাচারি, অফিসগামী যাত্রী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে আটকে থাকছে। এ সড়ক দিয়ে পদ্মাসেতু হয়ে মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ,পূর্ববঙ্গ সহ প্রতিদিন এই পথে যাতায়াত করে হাজার হাজার মানুষ। ঢাকা না গিয়ে শর্টকাট রাস্তা হিসেবে এই পথে ব্যাবহার করে থাকে৷ বাজারের সড়কের যানজটের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে পথচারী, স্কুল শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ।
বাজারের প্রধান সড়কের দুই পাশে কোনো নির্দিষ্ট পার্কিং স্ট্যান্ড না থাকায় চালকরা যত্রতত্র অটোরিক্সা ও মিশুক পার্কিং করে রাখছেন। এতে রাস্তার অর্ধেকের বেশি অংশ সবসময়ই দখল হয়ে থাকে। সড়কের দুই পাশের ফুটপাথ পথচারীদের হাঁটার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। হকাররা ফুটপাথ ছাড়িয়ে রাস্তার ওপর পসরা সাজিয়ে বসছেন। কোথাও কোথাও স্থায়ী দোকানদাররাও তাদের মালামাল রাস্তার ওপর স্তূপ করে রাখছেন। বালিগাঁও বাজারের মতো ব্যস্ত এলাকায় দিনের বেলা বড় ট্রাক থামিয়ে মালামাল লোড-আনলোড করা হচ্ছে। সরু রাস্তায় একটি বড় ট্রাক দাঁড়ালেই দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় ও ব্যবসায়ীর বলেন, রাস্তার ওপর ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় ক্রেতারা দোকানে আসতে পারে না। জ্যামের কারণে মানুষের মেজাজ খিটখিটে থাকে, কেনাকাটার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
পথচারী লিটন শিকদার বলেন, এই পথে রেগুলার ব্যবসার কাজে নারায়ণগঞ্জে এবং মুন্সীগঞ্জ কোর্টে যাতায়াত করতে হয়। যানযটের কারনে বালিগাঁও সড়ক অতিক্রম করতে প্রয় ঘন্টা খানেক সময় লেগে যায়। বালিগাঁও সেতু থেকে একটি বায়পাস সড়ক হলে এই যানজট ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাওয়া যেতো।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ (সওজ) বিভাগের প্রকৌশলীরা জানান, বালিগাঁও বাজার সড়ক আগে ১৮ ফিট ছিলো বর্তমানে ২৪ ফিট করা হয়েছে৷ রাস্তার দুই পাশে লোকজন বাজার বসাচ্ছে যদি স্থানীয় প্রশাসন সহযোগিতা করতো তাহলে যানজটের সমস্যা থাকতো না৷ রাস্তা প্রসস্থর বিষয়ে নিরিক্ষা চলতেছে সময় লাগবে৷ নতুন প্রস্তাবনায় যেখানে ১৮ ফিট আছে ২৪ ফিট করা হবে৷ তবে বালিগাঁও বাজারে রাস্তা ২৪ ফিটই থাকবে কারন দুই সাইটে আমাদের অধিগ্রহণ ভূমি নেই এছাড়া দুই পাশে অসংখ্য স্থাপনা রয়েছে এ জন্য আমরা যতটুকু সম্ভব বড় করে দিয়েছি৷ ##
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ