ফতুল্লায় স্মার্ট মোবাইল কিনে না দেওয়ায় পিতাকে দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করার ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে সালমান (২০), মা সালমা বেগম (৩৯) এবং হাসানকে আসামী করে ফতুল্লা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নাম্বার ৯। তারিখ: ৩/৬/২০২৬ইং। ধারা – ৩২৪ /৩২৬ / ৩০৭ / ৫০৬ / ১০৯। মামলার বাদী আহত কামাল হোসেনের ছোট বোন পারভীন আক্তার বানু। এই মামলায় প্রধান আসামী আহত কামাল হোসেনের ছেলে সালমানকে ইতিমধ্যে ফতুল্লা থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গত বুধবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হামলায় ব্যবহৃত বটিটিও উদ্ধার করে পুলিশ। এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুবুর আলম জানান, মোবাইল ফোন ও আর্থিক বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। আহত ব্যক্তি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করেছে।তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে সালমান মাদকাসক্ত।
মামলার এজহারে আহত কামাল হোসেনের ছোট বোন বাদী পারভীন আক্তার বানু উল্লেখ করেন, বিবাদী ১। সালমান (২০), পিতা-কামাল হোসেন, মাতা-সালমা বেগম, ২। সালমা বেগম (৩৯), স্বামী-কামাল হোসেন, উভয় ২ সাং-মোচাগড়া, থানা-মুরাদনগর, জেলা-কুমিল্লা, এ/পি সাং-উত্তর দেলপাড়া জামে মসজিদের পাশে, জনৈক বাবলু এর বাড়ীর ৩য় তলার নিচ তলার ভাড়াটিয়া, থানা-ফতুল্লা, জেলা-নারায়ণগঞ্জ, ৩। হাসান (৩৫), পিতা-অজ্ঞাত, সাং-উত্তর দেলপাড়া জামে মসজিদের পাশে, শায়লার বাড়ীর ভাড়াটিয়া, থানা-ফতুল্লা, জেলা-নারায়ণগঞ্জদের বিরুদ্ধে এই মর্মে এজাহার দায়ের করিতেছি যে, উক্ত ১নং বিবাদী আমার বড় ভাই কামাল হোসেন (৪০), পিতা-সিদ্দিকুর রহমান, মাতা-বিফলা খাতুন, সাং-উত্তর দেলপাড়া জামে মসজিদের ওপাশে, জনৈক বাবলু এর বাড়ীর ৩য় তলার নিচ তলার ভাড়াটিয়া, থানা-ফতুল্লা, জেলা-নারায়ণগঞ্জ এর ছোট মিলছেলে এবং ২নং বিবাদী ১নং বিবাদীর মা। আমার বড় ভাই কামাল হোসেন উল্লেখিত বিবাদী ১ ও ২নং তাং দ্বয়কে সহ তাহার বড় ছেলে শাকিল আহম্মেদ (২১) দেরকে নিয়া বর্তমান ঠিকানার বাসায় স্ব-পরিবারে ২০২ বসবাস করিয়া আসিতেছে। উক্ত ১নং বিবাদী ৩নং বিবাদী সহ এলাকার অজ্ঞাত নামা খারাপ ছেলেদের সহিত চলাফেরা করিয়া মাদক সেবন করা সহ বিভিন্ন অপকর্মের সহিত জড়াইয়া পরে। আমার বড় ভাই ১নং বিবাদীকে বিভিন্ন ভাবে শাসন করা স্বত্বেও ১নং বিবাদী খারাপ পথ হইতে সরিয়া আসে নাই এবং ৩নং ৫০ বিবাদীর সহিত চলাফেরা বন্ধ করে নাই। ২ ও ৩নং বিবাদীদ্বয়ের ইন্দনে ও প্ররোচনায় ১নং বিবাদী আরো খারাপ পথে চলিয়া যায় এবং ১নং বিবাদী বিভিন্ন সময় আমার বড় ভাইয়ের নিকট মাদক সেবনের জন্য টাকা পয়সা চাইতো। ২নং বিবাদীও ১নং বিবাদীকে কোন বাধা নিষেধ না করায় ১নং বিবাদী প্রতিনিয়ত আমার ভাইকে মানসিক ভাবে অত্যাচার নির্যাতন করিয়া আসিতেছিল । কিছুদিন পূর্বে হইতে ১নং বিবাদী ২ ও ৩নং বিবাদীদ্বয়ের ইন্দনে ও প্ররোচনায় আমার বড় ভাই কামাল হোসেন এর নিকট দামী মোবাইল দাবী করিয়া আসিতেছিল, আমার বড় ভাই ১নং বিবাদীকে মোবাইল ফোন কিনিয়া দিতে রাজি না হওয়ায় ১নং বিবাদী ০২ আমার বড় ভাইকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও জীবন নাশের হুমকি প্রদান করিয়া আসিতেছিল। তারই হোসেন ধারাবাহিকতায় গত ইং-০৩/০৬/২০২৬ তারিখ রাত্র অনুমান-১২.৩০ ঘটিকার সময় আমার বড় ভাই ), কামাল হোসেন ফতুল্লা থানাধীণ উত্তর দেলপাড়া জামে মসজিদের পাশে জনৈক বাবলু এর ৩য় তলার ৮০ ভাড়াটিয়া বাড়ীর নিচের উত্তর দিকের ফ্ল্যাটে অবস্থানকালে ১নং বিবাদী পুনরায় আমার ভাইয়ের নিকট মোবাইল ফোন চাইলে আমার ভাই ১নং বিবাদীকে মোবাইল ক্রয় করিয়া দিতে রাজি না হইলে ১নং বিবাদী আমার ভাইকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এক পর্যায়ে আমার ভাই ১নং বিবাদীকে গালিগালাজ করিতে বাধা নিষেধ করিলে ২ ও ৩নং বিবাদীদ্বয়ের হুকুমে ও নির্দেশে ১নং বিবাদী ঘরে থাকা ধারালো বটি দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ভাই কামাল হোসেন (৪০) এর মাথার একাধিক স্থানে, বাম কানে, ঘাড়ের পিছনে বাম পাশে, মুখের উপরে, বাম কাধে, বাম হাতের কজিতে ও আঙ্গুলের উপরে, পিঠের বাম পাশে একাধিক স্থানে, বাম কোমরের নিচে সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক কোপ মারিয়া গভীর গুরুতর রক্তাক্ত কাটা জখম করে। আমার ভাইয়ের ডাক চিৎকারে আশপাশের ভাড়াটিয়া লোকজন আগাইয়া আসিতে থাকিলে বিবাদীরা আমার ভাইকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও জীবন নাশের হুমকি দিয়া ঘটনাস্থল হইতে বাহির হইয়া চলিয়া যায়। সংবাদ পাইয়া আমি দ্রুত আমার ভাইয়ের বাসায় যাইয়া আমার ভাইকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দ্রুত সিএনজি যোগে ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল খানপুর, নারায়ণগঞ্জে নিয়া গেলে উক্ত হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার আমার ভাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করিলে আমরা আমার ভাইকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত এ্যাম্বুলেন্স যোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়া চিকিৎসা করাই। আমার ভাইয়ের অবস্থা আরো গুরুতর হওয়ায় আমার ভাইকে প্রাইম অর্থপেডিক এন্ড জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার মোহাম্মদপুর, ঢাকায় নিয়া ভর্তি করি। আমার ভাই উক্ত হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রহিয়াছে। ঘটনার বিষয়টি বিস্তারিত জেনে শুনে থানায় আসিয়া এজাহার দায়ের করিতে বিলম্ব হইল । অতএব, উল্লেখিত বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে জনাবের সদয় মর্জি হয়।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ