রূপগঞ্জে নির্বাচনোত্তর সহিংসতার আতঙ্ক এখন থামেনি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ভাঙচুরসহ ককটেল বিস্ফোরণ, একটি প্রাইভেট কার ও তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয়। এক পক্ষ অপর পক্ষকে ঘায়েল করতে নানা কৌশল পন্থা অবলম্বন করছে। হচ্ছে মিছিল, মানববন্ধন। অপর দিকে ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম নিজের জীবন নিরাপত্তাহীনতার ভুগছেন বলে দাবি করছেন। স্থানীয়রা জানায়, একটি গ্রুপ নির্বাচনের পর অপর পক্ষের প্রতিশোধ নিতে মরিয়া। যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন গ্রুপের সন্ত্রসীরা সাধারণ কৃষক সেজে হামলা করছে, মানববন্ধন, মিছিল করছে। এদিকে অপর আরেকটি পক্ষ দাবি করছে, নির্বাচনের সময় তাদের বিরুদ্ধে কাজ করায়, এখন আমাদের নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে গণমাধ্যমকে ভুল বুঝিয়ে সংবাদ প্রকাশ করছে। এদিকে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ওরফে জাহাঙ্গীর স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান ভূঁইয়ার বলয়ে রাজনীতি করেন। বিপরীতে দাউদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আমিন রানা ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সাত্তার বিজয়ী সংসদ সদস্যর বলয়ে রাজনীতি করেন। এ নিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের বিপক্ষে শাহজাহান ভূঁইয়া স্বতন্ত্র নির্বাচন করলে নুরুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলামদের মধ্যে বিরোধ আরও প্রকট হয়। সেই বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। গত ১৬ জানুয়ারি দুপুরে রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউপি কার্যালয়ের সামনে নির্বাচনী বিরোধ কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ককটেল, গাড়িতে আগুন দেওয়া ও ভাঙচুর করা হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়। সংঘর্ষে অন্তত ৭জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের নৌকা প্রার্থী ও পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিরা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান ভূঁইয়ার সমর্থক বলে জানা গেছে।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ