এ শীতের মধ্যে দুর্লভ এসব পরিযায়ী অতিথি পাখিদের বিচরণে মুখরিত মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার কামারখাড়া ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ড ভাঙ্গনীয়া দিঘি৷ দিনভর পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত এলাকা৷
শীতে প্রকৃতিতে যখন হিমেল হাওয়ার ছোঁয়া লাগে, তখন বাংলাদেশের জলাশয়গুলো ফিরে পায় এক নতুন প্রাণ। এর ব্যতিক্রম নয় ভাঙ্গনীয়া দীঘি৷
দিঘিরপাড় আশ-পাশে এখন পরিযায়ী পাখির নির্ভয় বিচরণ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। শীতের শুরুতেই দিঘিতে পরিযায়ী পাখির দল বেঁধে ওড়াউড়ি, ছোটাছুটি আর ডুব সাঁতারের সুন্দর মুহূর্ত দেখে মুগ্ধ স্থানীয়রা। ঝাঁকে ঝাঁকে পরিযায়ী পাখির উড়ন্ত দৃশ্য উপভোগ করতে পিছিয়ে নেই দর্শনার্থী।
এ বছর হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে আসা অতিথি পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে এই দিঘীটি। বর্তমানে এটি প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের জন্য এক আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। ভাঙ্গনীয়া দীঘিপাড়া গ্রামে অবস্থিত প্রাচীন ভাঙ্গিয়া দিঘীর স্বচ্ছ জলরাশি আর চারপাশের শান্ত পরিবেশ যেন অতিথি পাখিদের জন্য এক নিরাপদ আশ্রয়স্থল। সুদূর সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া এবং হিমালয়ের পাদদেশ থেকে আসা এসব পরিযায়ী পাখি এখন দিঘীর বুকে ডানা ঝাপটিয়ে বেড়াচ্ছে। দিঘীর শৈবালের মাঝে এদের বিচরণ যেন এক জীবন্ত জলরঙের ছবি।
ভোরবেলা যখন কুয়াশা ভেদ করে সূর্যের আলো দিঘীর জলে পড়ে, তখন পাখিদের ডানা ঝাপটানো আর কিচিরমিচির শব্দে এক মায়াবী পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ বছর শীতের শুরুতে এই পাখিরা আসতে শুরু করে। পাখিদের এই মেলা দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করছেন দর্শনার্থী৷ ভাঙ্গিয়া দিঘীর এই দৃশ্য আমাদের এলাকার ঐতিহ্য। পাখিরা আসায় পুরো এলাকার পরিবেশটাই বদলে গেছে। আমরা চেষ্টা করি কেউ যেন এদের বিরক্ত না করে৷ ভাঙ্গনীয়া দীঘিতে এই প্রথমবার আসা এসব পরিযায়ী পাখি দেখতে কার না ভালো লাগে। তাই পাখিদের রক্ষায় কাজ করছে স্থানীয়রা। এ বছর ধরে শীতের শুরুতে ভোরে পাখিগুলো অবস্থান নেয় দিঘিতে। আর সন্ধ্যায় উড়াল দিয়ে চলে যায় অন্যত্রে। তবে শীতের পর আর পাখিগুলো দেখা যাবে না৷ তবে স্থানীয়দের দাবি আর কেউ যেন পাখি শিকার করতে না পারে তাদের রক্ষায় কাজ করছে স্থানীয়রা। পাখি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে পাখি প্রেমী দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে দিঘীর আশপাশ। এই দিঘী পদ্মা নদীর খুব কাছে এবং পরিবেশ-প্রকৃতি অনুকূলে থাকায় দিঘিকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল মনে করছে এ পাখিগুলো। নদীতে শামুক, জলজ পোকামাকড় তাদের খাদ্য হলেও দিঘিতে তা রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা আমির হোসেন মোড়ল বলেন, এই প্রথম এ দিঘীতে ভোরবেলায় ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি আসে। আর সন্ধ্যায় চলে যায়। তবে পাখিগুলো যেন কেউ শিকার করতে না পারে, সেজন্য স্থানীয়রা পাহারার কাজও করছেন। অনেক সুন্দর লাগছে পাখিগুলোকে। দূরদূরান্ত থেকে লোকজন আসছেন পাখি দেখতে। দিঘিতে পাখিগুলো বিচরণ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। এর মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির দুর্লভ হাঁস, ছোট কান প্যাঁচা, চখাচখিসহ কয়েক প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে দিঘিতে। তাই দিঘিকে যেন পাখির নির্ভয় বিচরণ ক্ষেত্রে পরিণত করা যায় এজন্য সংশ্লিষ্ট বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের দায়িত্বশীলদের এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করছেন তারা।##
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ