তারা বলেন, গত ১৫ বছরে সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময় গোলাম দস্তগীর গাজী ও তাঁর ছেলেরা কারখানা ও আবাসন প্রকল্পের নামে হাজার হাজার মানুষের চাষের জমি দখল করে। তাই, যেকোন মূল্যে তাদের প্রতিহত করতে চায় রূপগঞ্জবাসী। পৌঁছা ভিডিওতে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের রূপগঞ্জের বরাবো বাজারের ৯ নং ওয়ার্ড সভাপতির নির্মাণাধীন বাড়ির নিচতলায় ভোটার আইডি কার্ড দেখে টাকা দেওয়া হচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যায়, টাকা নেওয়ার জন্য অনেক মানুষ জড়ো হয়েছেন। ৯ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি মুলজার, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা রতন মিয়া ও খোরশেদসহ বেশ কয়েকজন একত্রিত হয়ে টাকা বিতরণ করছেন। ভিডিও দেখে স্থানীয়দের নিকট থেকে তাদের নাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে সভাপতি মুলজারের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেলেও অন্যরা কোন পদে রয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে অপর এক ভিডিওতে দেখা যায়, সন্ধ্যাকালীন সময়ে একটি ঘরের মধ্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতা বসে রয়েছেন আর জাতীয় পরিচয় পত্র দেখে টাকা দেওয়া হচ্ছে। ভিডিওতে শোনা যায়, এক নারী বলছেন ‘আমি কখন নিছি?’ এসময় ঘরের মেঝেতে বসা একজন বলেন, ‘তোর কথা কয়নি (বলেনি), তোর মায়েরটা লইয়া গেছে। আব্বারটা নিছে।’ আওয়ামী লীগের সভাপতি মুলজারের নিকট থেকে টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় কথা হয় স্থানীয় এক নারীর সঙ্গে। নাম জানতে চাইলে তিনি মুমিনের মা বলে পরিচয় দেন। কিসের টাকা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমনেই দিছে। তখন পরিচয় গোপণ করে প্রতিবেদক বলেন, ‘আমাকে দিবে না?’ তিনি বলেন, ‘ভোটার হইলে দিবো।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, ‘মুলজার সাহেব মন্ত্রী সাহেবের কাছের লোক। তারাবোর ৯ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই এলাকার নির্বাচনের দায়িত্বেও তিনি আছে। তাই কাছের লোকদের আগে আগেই টাকা দিচ্ছেন।’ ভোট দেওয়ার জন্য টাকা দিচ্ছে কি-না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যারা টাকা পাচ্ছে তারা এই এলাকারই ভোটার। বাড়তি কিছু বললে সমস্যা আছে।’