নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে উপজেলা নির্বাচনে দলের যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এমনকি আজীবন বহিস্কারেরও ঘোষণা দিয়েছে দলটি। কেননা, গত জাতীয় নির্বাচনের মতো এবারও উপজেলা নির্বাচন যে একতরফা নির্বাচন তা, বিশ^বাসীকে দেখাতে চায় দলটি। তাই ইতিমধ্যে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিলে করেছেন তাদের প্রত্যাহার করতে হবে বলে দলের তৃণমূলকে বার্তা দিয়েছে বিএনপি।
তবে, সেই বার্তাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ও নিজ দল বিএনপির সাথে বেঈমানী করে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন আতাউর রহমান মুকুল। এতে করে তার বহিস্কারাদেশ আরও লম্বা এমনকি আজীবন বহিস্কারাদেশ আসতে পারে তার বিরুদ্ধে এমনটাই ধারণা করছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। তবে, ওসমান পরিবার দালাল হিসেবে পরিচিতি তথা আওয়ামীলীগের দালাল হিসেবে পরিচিত মুকুলের তাতে কিছু যায় আসে না বলেও মনে করেন বন্দর উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।
তাদের মতে, মুকুল কখনোই মনে প্রাণে বিএনপি করে নি, বা বিএনপির সাথে জড়িত ছিলো না। তার ভাই (কালাম) যখন এমপি ছিলো তখন মধু খেতে বিএনপি বিএনপি জপতো। এছাড়া, কিছুই নয়। কেননা, বিএনপির সরকারের বিদায়ে পর আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসলে ক্ষমতাসীন দলের শরীক দল জাতীয় পার্টির এমপি নাসিম ওসমানের রাজণৈতিক মুরিদ হয় মুকুল। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি হওয়ার সুবাদে নাসিম ওসমানের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে এই মুকুল। তৎকালীণ সময়ে নাসিম ওসমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজনে পরিণত হয় সে।
নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানের মুরিদ হয় মুকুল। সেলিম ওসমানের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে গত উপজেলা নির্বাচনে সে অংশ নেয়নি বলে জানায় স্থানীয়রা। কিন্তু সেলিম ওসমান কোনো আর্থিক সুবিধা না দেয়ায় নির্বাচনে অংশ নেয় সে। ফলে সেলিম ওসমান তথা ওসমান পরিবারের সাথে ক্রমশ দুরত্ব বাড়তে থাকে মুকুলের। যা পরবর্তী নির্বাচনে ভোটের মাঠে বেশ বেকায়দায় ফেলবে মুকুলকে। কেননা, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি একেএম সেলিম ওসমানের নির্বাচনী এলাকার আওতায় রয়েছে বন্দর উপজেলাটি। বন্দরের মানুষ সেলিম ওসমানের কথাতেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করে, এটা বারবার পরীক্ষিত। ব্যবসায়ী নেতা সেলিম ওসমান নিজের কাজ, মেধা ও রাজণৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে জয় করে নিয়েছেন বন্দরবাসীর মন। শুধু কি বন্দর, নারায়ণগঞ্জ সদরসহ সমগ্র জেলায়ই প্রশংসিত সেলিন ওসমান। নিজ নির্বাচনী এলাকায় বিশেষ করে বন্দরে মাঠ, ঘাট, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, মসজিদ-মন্দির, পুল-কালভার্ট, সড়ক নির্মাণসহ গণমানুষের প্রয়োজনে সব ধরনের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন সেলিম ওসমান। আর তাই, তিনি যাকে পছন্দ করেন বন্দরবাসীও বারবার তাকেই নির্বাচিত করেন। কেননা, বন্দরবাসী সেলিম ওসমানকে অত্যন্ত আপনজন মনে করে, সেলিম ওসমানও বন্দরবাসীকে আপনজন বলে অভিহিত করে থাকেন। আর তাই, সেলিম ওসমানের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করাটা কোনো বিষয় নয়, তবে নির্বাচনে জয়ী হওয়াটা একটি বিশাল ব্যাপার।
বিপরীতে, নিজ দল বিএনপি থেকেই অনেক আগেই বহিস্কৃত হয়েছেন তিনি। তাই বিএনপির ভোটও তার ব্যালটে পড়বে না এটা সহজেই অনুমেয়। ফলে ভোটের মাঠে শুন্য আতাউর রহমান মুকুলের ভরাডুবি এখন সময়ের ব্যাপার, এমনটাই দাবি বন্দরবাসীর।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ