গোদনাইল বার্মাশীল এলাকার দেলুর ছেলে ইরফান ভুইয়া, আ.লীগের নেতা ইয়ার ভুইয়ার ছেলে ইমন ভুইয়া ও আ.লীগ নেতা ফারুক হোসেনের মেয়ের জামাই মেজবা ভুইয়াসহ কয়েকজন নিষিদ্ধ ঘোষিত আ.লীগের দোসর যারা বর্তমানে সাবেক ছাত্রনেতা জাকির খানের নাম ভাঙ্গিয়ে গোদনাইল পদ্মা ডিপো এলাকায় শ্রমিকদলের নাম ব্যবহার করে একাধিক অফিস দিয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিকদল। আ.লীগের এসব দোসরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা হয়েছে অভিযোগ। এরা নিষিদ্ধ ঘোষিত স্বৈারাচার আ.লীগ আমলে দীর্ঘ ১৬ বছর সিদ্ধিরগঞ্জ ওসমান পরিবারের অন্যতম দোসর সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহবায়ক সাবেক কাউন্সিলর সন্ত্রাসী মতির অন্যতম সহযোগী ছিলো বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এই সকল আ.লীগের দোসররা বর্তমানে সাবেক ছাত্রদল নেতা জাকির খানের নাম ভাঙ্গিয়ে নাসিক ৬নং ওয়ার্ডে শ্রমিকদলের অফিস বানিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করার কথাও জাকির খানকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহানগর শ্রমিকদলের সদস্য সচিব ফারুক। এদিকে মহানগর শ্রমিকদলের পক্ষ থেকে আ.লীগের দোসরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছেন না। ফলে শ্রমিকদল নেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃস্টি হয়েছে। যদি আ.লীগের দোসরদের সাথে শ্রমিকদল নেতাদের মধ্যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তার দায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশকে নিতে হবে বলে ক্ষোভের সাথে শ্রমিকদল নেতারা জানায়। এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি’র কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মহানগর শ্রমিকদলের শীর্ষ নেতারা।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিকদলের প্যাডে নাসিক ৬নং ওয়ার্ড শ্রমিকদলের সদস্য সচিব কাজী অকিল আহাম্মেদ গোদনাইল বার্মাশীলের আ.লীগের দোসরদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তারা হলেন, ১। ইরফান ভূঁইয়া (২৬), পিতা- দেলোয়ার হোসেন ভইয়া, ২। মেজবা ভূঁইয়া (২৭) পিতা-রূপচান ভূঁইয়া, ৩। ইমন ভূঁইয়া (২৫), পিতা- ইয়ার হোসেন ভূঁইয়া, ৪। ফয়সাল ভূঁইয়া (২৫), পিতা আক্তার ভূঁইয়া, ৫। রেজাউল (৪৫), পিতা- মৃত নবাব সারেং, ৬। খোকন (৪০), পিতা- আব্দুল গফুর, সর্ব সাং- গোদানাইল বার্মাস্ট্যান্ড, থানা- সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা- নারায়ণগঞ্জ। অভিযোগে নাসিক ৬নং ওয়ার্ড শ্রমিকদলের সদস্য সচিব কাজী অকিল আহাম্মেদ উল্লেখ করেন, উপরোক্ত বিবাদীগন আওয়ামী দুষ্কৃতীকারী দলের সক্রীয় সদস্য। বিগত আওয়ামী সরকার দেশ পরিচালনা কালে ৬নং ওয়ার্ড এর স্বৈরাচারী কাউন্সিলর মতিউর রহমান ওরফে মতির ছত্র ছায়ায় সিদ্ধিরগঞ্জ ও আশপাশের থানা এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতী, চাঁদাবাজী করা সহ আরো বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপ করিয়াছে। দেশে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালিন সময় উপরোক্ত আসামীরা ছাত্র জনতার উপর অস্ত্র সস্ত্র নিয়া হামলা করা সহ তাহাদের হত্যা করিয়া লাশ গুম করিয়াছে। গত ৫ই আগষ্ট ২০২৪ এ আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকার দলের পতন ঘটিলে আসামীদের নামে একাধিক বৈষম্য বিরোধী মামলা দায়ের হয়। যাহার ফলে আসামীরা কিছুদিন আত্মগোপনে থাকে এবং আত্মগোপন এ থাকিয়া বিভিন্ন সময় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতী, চাঁদাবাজী করা সহ আরো বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে যায়। বর্তমানে আসামীগন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এর সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শ্রমিকদল নাম ব্যবহার করিয়া অবৈধ অফিস করিয়া পূর্বের ন্যায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতী, চাঁদাবাজী করা সহ আরো বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনা করিতেছে এতে করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি তথা শ্রমিকদল এর সম্ম্যান শূন্য হইতেছে। ইতিপুর্বে আসামীদের কমিটির অনুমোদন এর বৈধ পরিপত্র দেখাইতে বলিলে তাহারা আমাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদান করিয়াছে। গত ২১/০৬/২০২৫ তারিখ বেলা অনুমান ১১:০০ ঘটিকার সময় সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ৬নং ওয়ার্ড গোদনাইল বার্মাস্ট্যান্ড পদ্মা অয়েল কোম্পানী রোডে আসামীদের অবৈধ অফিসে গিয়া আসামীদের কমিটির অনুমোদন এর বৈধ পরিপত্র দেখাইতে বলিলে তাহারা আমাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদান করিয়া তাড়াইয়া দেয়। বিষয়টি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র উচ্চ প্রদস্থ নেতা/কর্মীদেরকে অবগত করা হয়েছে। এর আগেও এই সকল আ.লীগের দোসরদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী জব্বার ও সেন্টু সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই সকল আ.লীগের দোসরদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে গোদনাইল পদ্মা ডিপোর ডিএস পিয়ার আলী স্ব-ইচ্চায় চলে গেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে কয়েকজন বিএনপি নেতা ক্ষোভের সাথে জানায়, কয়েক দিন আগেও গোদনাইল বার্মাশীল এলাকার ইরফান ভূঁইয়া (২৬), মেজবা ভূঁইয়া , ইমন ভূঁইয়া (২৫), ফয়সাল ভূঁইয়া (২৫), রেজাউল (৪৫), খোকন (৪০) ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জের দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী থানা যুবলীগের আহবায়ক সাবেক কাউন্সিলর মতি’র অন্যতম সহযোগী। তারা মতির নাম ভাঙ্গিয়ে গোদনাইল পদ্মা ডিপো এলাকায় করেছে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। তাদের কারনে বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘরে থাকতে পারে নাই। ব্যবসা বানিজ্য করতে পারে নাই। কারন, সে প্রকাশ্যে বিএনপি জামাত নেতাদের বিরুদ্ধে মিছিল করেছে। শ্লোগান দিয়ে তাদের কল্লা চেয়েছে। তাদের ভয়ে বিএনপিসহ সাধারন মানুষ কথা বলতে সাহস পেতো না। বিএনপি-জামাতের বিরুদ্ধে আ.লীগের বিভিন্ন কর্মসূচী পালনে ইরফান ভুইয়া, মেজবা, ইমন ভুইয়াগংদের সামনের সারিতে দেখেছে স্থানীয় বিএনপি নেতারা। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বিএনপি-জামাতের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে মিছিলের সামনের সাড়িতে থেকে বিএনপি-জামাত নেতাদের কল্লা চেয়েছিলেন এরা।

গত ৫ আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার তোপের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায় আ.লীগ সরকার প্রধান শেখ হাসিনা। এ সময় গা ঢাকা দেয় সন্ত্রাসী মতি ও তার সহযোগীরা। আ.লীগ আমলে যারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করেছে তাদের নামে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। কিছুদিন আত্নগোপনে থেকে গত ৫ আগষ্টের পর এই সকল আ.লীগের দোসর ভোলপাল্টে এখন সদ্য কারামুক্ত জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের লোক বনে গিয়ে তার নাম ভাঙ্গিয়ে নতুন করে শুরু করেছে চাদাবাজি, দখলবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। এর প্রমাণ হিসেবে ভুক্তভোগী থেকে জানা যায়, গত গত এপ্রিল মাসে কয়েকজন তেল ব্যবসায়ীকে হুমকী-ধামকী দেয় ইরফান ভুইয়া, মেজবা ভুইয়াগং। এরপর আওয়ামীলীগের লোক বলে ব্যবসায়ী ছোট জব্বারের নিকট কয়েক লক্ষ টাকা দাবী করে। চাদা দিতে অস্বীকার করলে জেঠাতো ভাই মেজবাকে পাঠায় জব্বারবে মারধর করে তুলে নিয়ে আসার জন্য। এ ঘটনায় ছোট জব্বার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ইরফান ভুইয়া, মেজবার নামে অভিযোগ দায়ের করে। এই ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ রাতে অভিযানও চালিয়ে ছিলো বলে একটি বিশ^স্ত সুত্রে জানা যায়। কিন্তু জাকির খানের নাম দিয়ে সেই যাত্রায় বেচে গেছে তারা। এলাকাবাসী জানায় এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় জাকির খানের নামে বিতর্কের সৃস্টি হচ্ছে। আরো অভিযোগ উঠেছে, ভোলপাল্টানো হাইব্রিড নেতা ইরফান ভুইয়া, মেজবা ভুইয়া, ইমন ভুইয়া দলবল নিয়ে গোদনাইল পদ্মা ডিপো দখল, পদ্মা ডিপো স্টাফদের হুমকী ধামকী, চাদাবাজি, অবৈধভাবে তেল নামাতে সদ্য কারামুক্ত জাকির খানের নাম বলে ডিপোর লোকজন ও গাড়ি চালকদের নানা ভাবে হুমকি থামকি দিয়ে থাকেন। যা নিয়ে অনেকটা আতংকের ভিতরে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরফলে জাকির খানের সুনাম বিনষ্ট হচ্ছে। সুনাম নষ্ট হচ্ছে বিএনপির। ইরফান ভুইয়াগং আসলে জাকির খানের কোন লোক নয়। তারা হচ্ছে সন্ত্রাসী ও চাদাবাজ। তারা বর্তমানে একবার জাকির খান একবার শ্রমিকদলের নাম ব্যবহার করে ফায়দা লুটতে চাইছে। গত কয়েক মাস আগে নাসিক ৬নং ওয়ার্ড শ্রমিকদলের অফিস উদ্ধোধন করে ইরফান ভুইয়া, মেজবা ভুইয়াগং। শ্রমিকদলের নেতা না হয়েও শ্রমিকদলের অফিস উদ্ধোধন করায় শ্রমিকদলের নেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃস্টি হয়। শ্রমিকদল নেতারা প্রকাশ্যে অভিযোগ করে বলেন, ইরফান ভুইয়া, মেজবাগং শ্রমিকদলের কেহ নয়। তারা হচ্ছে আওয়ামলীলীগের দোসর। তারা যদি শ্রমিক দলের পরিচয় দেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তারপরও তারা ভালো হয়নি। অবশেষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে গেলো নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিকদল। এদিকে আ.লীগের দোসর ইরফান ভুইয়া, মেজবা ও ইমন ভুইয়া গংদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সাবেক ছাত্রদল নেতা জাকির খানকে অবহিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিকদলের সদস্য সচিব ফারুক হোসেন। তিনি আশা করেন জাকির খান এই সকল আ.লীগের দোসরদের বিরুদ্ধে কঠোর হবেন। অন্যথায় বিএনপি’র সুনাম বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদল নেতারা যেকোন কর্মসূচী গ্রহন করতে বাধ্য হবেন বলে জানান।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ