নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এমপি সেলিম ওসমানের দেওয়া শর্তে বসেছে হকাররা। চাষাঢ়া মাধবী প্লাজার পাশ থেকে মেট্রো হল পর্যন্ত হকারদের বসার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মার্চ) সকাল থেকেই চাষাঢ়ায় জড়ো হতে থাকেন হকাররা। বিক্রির জন্য মালামাল সাজানোয় ব্যস্ত সময় পার করেন তারা।
সকাল সাড়ে ১০ টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মিশনপাড়ার মোড় থেকে চাষাঢ়া মাধবী প্লাজা পর্যন্ত রাস্তার এক পাশ যানবাহন বন্ধ রাখা হয়েছে। সেখানে হকাররা এক এক করে পসরা বসাচ্ছেন। কেউ কেউ ক্রেতাদের মনোযোগ কাড়তে পণ্য সামগ্রীর দাম হাকিয়ে যাচ্ছেন। বেলা গড়ানোর সাথে সাথে ক্রেতাদের ভিড় জমতে দেখা যায় সেখানে। ওড়না, থ্রি-পিছ, ফ্রকসহ বিভিন্ন রং-বেরঙের পোশাকের মধ্য থেকে পছন্দের কাপড়টি বেছে নিয়ে হকারদের সাথে দড় মূলামূলি করছেন তারা।
হকারদের সাথে কথা হলে তারা জানান, ঈদুল আজহা পর্যন্ত তারা বসতে পারছেন। সপ্তাহে রবি থেকে বৃহস্পতিবার সড়কের পাশ ঘেষে যান চলাচলের এক অংশ ছেড়ে তারা বসবেন। শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনগুলোয় সড়কের এক অংশে বসবেন তারা, যেখানে ওয়ান ওয়ে সড়কে যানবাহন আসা-যাওয়া করবে।
বহু দিন পর ব্যবসা করার সুযোগ পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন হকাররা। হকার সজীব বলেন, আমরা নিজেদেরে জন্য বসার স্থান পেয়েছি, এটা আমাদের একটা প্রাপ্তি। এমপি সাহেবকে আমরা ধন্যবাদ জানাই যে, তিনি আমাদের দিকে তাকিয়েছেন। আমরা দুমুঠো খাবার খেতে পারি সে লক্ষে রাস্তায় নেমেছিলাম। আমরা চাইনি যে আমরা বিক্ষোভ করি, সমাবেশ করি। পেটের দায়ে আমরা তা করতে বাধ্য হয়েছি। আমরা যে বসতে পেরেছি তাতে আমরা অনেক খুশি। আমরা আরও খুশি হবো যদি ঈদের চাঁদ রাত পর্যন্ত এইভাবে বসে জীবিকা নির্বাহ করতে পারি। প্রধানমন্ত্রী ও এমপির প্রতি আমাদের অনুরোধ আগামী দিনগুলোতে আমরা যাতে এভাবেই বসার সুযোগ পাই। আমারা সবাই পরিবার-স্বজন নিয়ে সাচ্ছন্দে ঈদুল ফিতর উৎযাপন করতে পারি এইটুকুই কামনা। আমরা চাই এমপি সাহেব আমাদের ছায়া হয়ে থাকেন।
একদিকে হকাররা যেমন খুশি, অপর দিকে খুশি হয়েছেন খেটে খাওয়া মানুষও। বাচ্চাদের জন্য কাপড় কিনতে আসা শিউলী বলেন, গার্মেন্টেস ফ্যাক্টরীতে কাজ করি। যে বেতন পাই তা দিয়ে সংসার চালানোই অনেক কষ্টকর। বাচ্চাদের জন্য কাপড় কিনে না দিতে পারা আরও কষ্টকর। এখানে আজ হকার বসতে দেখে এসেছি। কম দামে ভালো কয়টা কাপড় নিয়েছি। বাচ্চারা আমার অনেক খুশি হবে।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ