ধার-দেনার চাপে পাগল প্রায় মা লতা রানী দাস ও বাবা সুমন চন্দ্র দাস। তবুও মা-বাবার মনতো তার সন্তানদের জন্য কাঁদবেই। তাই হাজারো টানাটানির সংসারে দ্বিতীয় পুত্র সন্তানের প্রথম জন্মদিন পালন করবেন বলে স্থির করেন তারা। সে জন্য শুক্রবার (০১ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে তারা গিয়েছিলেন কালীরবাজারে সন্তানের জন্য সামান্য কিছু কেনাকাটা করতে। সুমন দেনা পরিশোদের জন্য তার প্যান্টের পকেটে আলাদা সাড়ে ৮ হাজার টাকা রেখে বাকী টাকা দিয়ে কেনাকাটা করে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বাড়ী ফিরছিলেন। কিন্তু কালীরবাজার কেন্দ্রীয় মসজিদ মার্কেটের সামনে আসামাত্র চিহ্নিত সন্ত্রাসী সবুজ মন্ডল ও হান্নানসহ আরও ৪-৫জন সন্ত্রাসী তাদের পথরোধ করে। তারা সড়ক থেকে সুমনকে উঠিয়ে কালীরবাজার কেন্দ্রীয় মসজিদ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় কথিত এক কাজী অফিসে নিয়ে যায়। মূলত এ কাজী অফিসটি স্থানীয়দের কাছে টর্চারসেল নামে পরিচিত। সন্ত্রাসীরা বিভিন্নজনকে একই ভাবে ওই অফিসে তুলে নিয়ে মারধর করে সাধারণ ও অসহায় মানুষদের কাছ থেকে সর্বস্ব কেড়ে নেয়। কখনোও বিচার সালিশের নামেও চলে অর্থ বাণিজ্য।
ওই অফিসে সুমনকে জোর করে তুলে নেয়ার সময় পিছন পিছন তার বড় ৭ বছর বয়সী শিশু সন্তান হাও মাও করে কেঁদে ওঠে। সাথে সাথে তার স্ত্রী আরেকটি সন্তানকে বুকে জড়িয়ে চিৎকার করে তাদের পিছনে ছুটেন। কিন্তু তবুও স্ত্রী ও শিশুদের আকুতি তাদের মন গলাতে পারেনি। তারা কাজী ইমরানের ওই অফিসে নিয়ে কাজী ইমরানসহ সন্ত্রাসী সবুজ ও হান্নানগংরা সুমনকে বেধর কিলঘুশি মারতে থাকে। এসময় সুমনের অবুঝ শিশুসন্তানেররা চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। তবুও তাদের সামনেই সন্ত্রাসীরা সুমনকে মারধর করে। পরে স্ত্রী লতা বাধা দিতে চাইলে নারী হওয়া সত্বেও তাকে এইটুও সম্মান দেয়া হয়নি। এক পর্যায়ে তার উপরও হাত তুলে ওই সন্ত্রাসীরা। পরে সুমনের পকেট থেকে ওই সাড়ে ৮ হাজার টাকা ও লতার গলায় থাকা একটি স্বর্ণের চেন নিয়ে তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেয়।
এ বিষয়ে সুমনের স্ত্রী লতা রানী দাস বাদি হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি ওই সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, কতটা পাষন্ড হলে একজন অবুঝ সন্তানের সামনে তাদের মা-বাবাকে মারধর করে। আমরা গরিব হলেও আমাদেরও সম্মান আছে। আমরা আমাদের সম্মান ফিরে চাই। তাই আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আমরা ওই সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারসহ এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি, যাতে ওরা আর কোন দিন কোন নারীর উপর হাততোলার সাহস না পায়।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ