আবারও দম্ভোক্তি করছেন টানা পনেরো বছরের ব্যার্থ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস। তিনি বলছেন, “এইবারও আমারেই রাখবো শামীম ওসমান” নির্বাচন অইবোনা! নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচনের তফশিল ঘোষনার পর থেকে তিনি এমন মন্তব্য করে চলেছেন বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি, সারা দেশে উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর এবার নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচনেরও তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। যার ফলে এরই মাঝে চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ও সমর্থন পেতে মাঠে নেমেছেন শাহ নিজাম, শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, মীর সোহেল এবং আবু মোহাম্মদ শরীফুল হক।
কিন্তু এরই মাঝে আজদা বিশ্বাস আবারও দম্ভোক্তি করে বলছেন এবারও নাকি তিনিই চেয়ারম্যান থাকবেন। তার এই দম্ভোক্তিকে ঘিরে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের মাঝে। তবে নারায়ণগঞ্জবাসীর অনেকে মনে করেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমান যা চাইবেন তাই হবে। তিনি যদি এবারও আজাদ বিশ্বাসকে রেখে দিতে চান তাহলে তিনি থেকে যাবেন। আর শামীম ওসমান না চাইলে থাকতে পারবেন না আজাদ বিশ্বাস।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা এলাকার জনগনের প্রশ্ন হলো, অকর্মা আজাদ বিশ্বাসকে পুনরায় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান কেন সমর্থন করবে? যেখানে আওয়ামীলীগের একাধিক নেতা এই উপজেলায় নির্বাচন করতে চাচ্ছেন, সেখানে শামীম ওসমান এবার আজাদ বিশ্বাসকে সমর্থন করবে না বলেও মনে করেন তারা।
উপজেলার ফতুল্লা থানা এলাকাবাসী মনে করেন, আজাদ বিশ্বাসকে বিনা ভোটে চেয়ারম্যান করে রেখে ভুল করেছেন শামীম ওসমান এমপি। কেননা, বিগত সময়ে আজাদ বিশ্বাসকে শামীম ওসমানের কোনো কাজে লাগেননি। বিগত ১৫ বছর যাবৎ আজাদ বিশ্বাস কেবলই সরকারের কাছ থেকে মোটা অংকের বেতন নিয়েছেন। গাড়ি বাড়ির সুবিধা ভোগ করেছেন এবং আরো নানা কায়দায় টাকা পয়সা উপার্জন করেছেন। তিনি চেয়ারম্যান থাকায় জনগনের দুই পয়সারও কোনো কাজ হয়নি। জনগনের দু:খ দূর্দশায় তিনি কোনো রকম খোঁজ খবর রাখেননি।
তাই স্থানীয় জনগন মনে করেন, তিনি যদি আরো এ্যাকটিভ হতেন তাহলে জনগন লাভবান হওয়ার পাশাপাশি লাভবান হতেন শামীম ওসমান এমপি নিজেও। এলাকার উন্নয়ন সঠিক ভাবে হলে ক্রেডিট শামীম ওসমানের, আর যথাযথ মনিটরিং এর অভাবে যথার্থ উন্নয়ন না হলে বদনামও শামীম ওসমানের। তাই অথর্ব আজাদ বিশ্বাসকে বিনা ভোটে চেয়ারম্যান করে রাখায় একদিকে জনগন যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, অপরদিকে শামীম ওসমানের ইমেজেরও ক্ষতি হয়েছে। তাই আজাদ বিশ্বাস যদি এবারও থাকতে চান তাহলে যেনো নির্বাচন করে জনগনের ম্যান্ডেট নিয়ে থাকেন এই দাবি উপজেলাবাসীর।
তাদের দাবি, শামীম ওসমান যেনো জোর করে আর আজাদ বিশ্বাসকে না রাখেন। এয়াড়া, জনগনের মাঝে যারা সচেতন তাদের মনে প্রশ্ন হলো কোন কারনে আজাদ বিশ্বাসকে বার বার চেয়ারে রাখছেন শামীম ওসমান? এমন একজন ব্যাক্তিকে চেয়ারে রেখে শামীম ওসমানেরই বা লাভটা কি? আজাদ বিশ্বাসেরতো বিএনপির ভেতরেও কোনো অবস্থান নেই। তাই শামীম ওসমান এবার কি করেন সেটাই দেখার বিষয়।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ