ফতুল্লার কুতুবপুর-নয়ামাটি এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, ভুমিদস্যু ও চাঁদাবাজ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতা আন্দোলনে ফতুল্লা যাত্রবাড়ি, বাড্ডা থানায় একাধিক মামলার আসামি পতিত ওসমানদের দোসর মোহাম্মদ শরীফ কে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। গত ১২ মার্চ বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। পরে ফতুল্লা থানায় তাকে হস্তান্তর করা হয়। সারা দেশে ডেভিল হান্ট অভিযানের অংশ হিসেবে সন্ত্রাসী শরীফকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে আ.লীগের লোক হয়ে বিএনপি সেজে এলাকার শান্ত পরিবেশ অশান্ত করছিলো। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিলো বলে এলাকাবাসী জানায়।
অভিযোগ রয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের সময় পতিত ওসমানদের দোসর মহানগর আ.লীগ নেতা শাহ নিজাম ও ফতুল্লা থানা যুবলীগ নেতা ফায়জুলের সাথে সাইনবোর্ড এলাকায় ছাত্র জনতার উপর হামলা চালায় সন্ত্রাসী শরীফ। এ ঘটনায় শরীফের বিরুদ্ধে ফতুল্লাসহ বিভিন্ন থানায় একাধীক হত্যা ও হত্যার চেষ্টা মামলা হয়েছে। র্যাব কতৃক গ্রেফতারের আগেও সন্ত্রাসী শরীফ ফতুল্লা থানা পুলিশশের হাতেও গ্রেফতার হয়। এছাড়াও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে সন্ত্রাসী শরীফ একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছে বলে জানায় এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা মডেল থানাধীন কুতুবপুর-নয়ামাটি এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, পুলিশের অস্ত্রলুটের হোতা, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের উপর হামলাকারী, একাধিক মামলার আসামি মোহাম্মদ শরীফ ছিল নারায়ণগঞ্জের যুবরাজ খ্যাত আজমেরী ওসমানের সকল অপকর্মের অন্যতম সহযোগী। সে কখনও কখনও ফতুল্লা থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল ইসলাম আবার শামীম ওসমানের ক্যাডার শাহ নিজামের চামচা হিসেবে নিজেদের কে আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয় দিয়ে কুতুবপুর-নয়ামাটি এলাকায় করেছে নানা অপরাধ কর্মকান্ড। এলাকাবাসী ক্ষোভের সাথে জানায়, কুতুবপুর নয়ামাটি এলাকার মৃত সুলাইমানের পুত্র মোঃ শরীফ দীর্ঘদিন ধরে পতিত স্বৈারাচার আওয়ামী লীগ করতো। তাদের সে আ.লীগের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় নানান অপকর্ম করে বেড়াতো। দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের শিকার হয়ে শরীফের অত্যাচারে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা এলাকা ছাড়া থাকলেও শরিফ দিব্যি এলাকায় অবস্থান করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যায়। একটি সূত্র হতে জানা যায়, শরিফের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের পয়লা ডিসেম্বর ফতুল্লা মডেল থানায় নারী নির্যাতন ও শিশু দমন আইনে একটা মামলা দায়ের করা হয়। যার নম্বর ৫, এছাড়াও ফতুল্লা মডেল থানায় আরেকটা চাঁদাবাজি, মারামারি মামলা দায়ের করা হয় ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর। যার নাম্বার ৮৬, এছাড়াও পুলিশের অস্ত্রলুটের মামলা রয়েছে শরিফের বিরুদ্ধে। সেই মামলায় জেলও খাঁটে। মাদকসহ র্যাবের হাতে আটক হয়ে দীর্ঘদিন জেল খেটে জামিনে বের হয়ে আসে বাদশা। সম্প্রতি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও গুলি বর্ষণ করে। এ ঘটনায় শরীফের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় ৩টি এবং যাত্রাবাড়ী থানা ও বাড্ডা থানায় একটি করে মামলা হয়। এ মামলায় অবশেষে র্যাবের হাতে শরীফ গ্রেফতার হয়। এর আগে গত বছরের ৬ অক্টোবর ফতুল্লা থানা পুলিশের হাতে শরীফ গ্রেফতার হয়। এদিকে র্যাবের হাতে সন্ত্রাসী শরিফ গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তাদের দাবী শরিফের ভাই কুখ্যাত মাদক বিক্রেতা বাদশাকে ও যেন অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়। তাহলে এলাকাবাসী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের হাত থেকে রক্ষা পাবে।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ