এবার সেই ডিসি এসপির ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দেয়া নরায়ণগঞ্জ শহরের কুখ্যাত চাঁদাবাজ মোহাম্মদ সায়মুন ইসলাম ওরফে বরিশাইল্লা সায়মন এবং তার কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে স্বরাস্ট্রমন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী, পুলিশের আইজিপি, পুলিশ উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছে সাহাব উদ্দিন নামক একজন গণমাধ্যম কর্মী। এই সাহাব উদ্দিন এক সময়ে বেসরকারী টেলিভিশন মাই টিভিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলো। অপর দিকে সায়মন ওরফে বরিশাইল্লা সায়মন নারায়ণগঞ্জ শহরের শত শত অটো রিক্সা প্রতিনিয়তঃ চাঁদাবাজি করে আসছে পুলিশের সহায়তায়। কয়েক বছর আগে একটি ভিডিও কে কেন্দ্র করে অবিরাম ভাবে মারধর, অপহরণ করে ফের মারধরের পর এবার সেই সায়মন তার সহযোগী আবু হাসান, মোঃ আলাউদ্দিন কালুসহ আরো কয়েকজন কে সাথে নিয়ে ব্যাপক নির্যাতন করে সাদা স্ট্যাম্পে সই নিয়ে এবার ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন ।
সাহাবুদ্দিনের দায়ের করা অভিযোগের আবেদন হু ব হু নিম্নে তুলে ধরা হলো :
বরাবর,
মাননীয় স্বরাস্ট্রমন্ত্রী,
স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়,
ঢাকা ।
বিষয় : বিচার চেয়ে মানবিক আবেদন ,
জনাব,
যথাবিহীত সম্মান প্রদর্শন পূর্বক বিনীত বিনীত নিবেদন এই যে, আমি মোঃ সাহাব উদ্দিন (৫২) জাতীয় পরিচয় পত্র নং ৮২৪২০২২৩৭৭ পিতা : আবদুল বাতেন ডিলার সাং পশ্চিম শিয়াচর কুতুবপুর, থানা : ফতুল্লা জেলা : নারায়ণগঞ্জ এই মর্মে আবেদন করিতেছি যে, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল মাই টিভি তে কর্মরত ছিলাম। বিগত ২০২২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী তারিখে আমার পূর্ব পরিচিত ১. আবু হাসান (৪৮) পিতা মোঃ আয়াত আলী সাং বাজারী পাড়া, দেওয়ান গঞ্জ জেলা : জামালপুর বর্তমান নারায়ণগঞ্জ শহরের অজ্ঞাত স্থানে বসবাস করেন। ২. মোঃ আলাউদ্দিন কালু (৫০) পিতা মৃত আহম্মদ মিয়া সাং লামাপাড়া, কুতুবপুর, থানা : ফতুল্লা, জেলা : নারায়ণগঞ্জগণ আমার ফতুল্লাস্থ অফিস মা আমেনা স্বপ্ন টাওয়ারের ৭ম তলায় উপস্থিত হয়ে আমার অফিসের পাশে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে আটককৃত মাদক মামলার আসামীরা কি করে মাদক সেবন করছে তা দেখে এসে অভিনয় করে উল্লেখিতরা আমাকে অভিনয় দেখতে শুরু করে।
আমিও তাদের সাথে তাল মিলিয়ে দুষ্টুমীর ছলে মাদক সেবীরা কি করে মাদক সেবন করে তা আমিও অভিনয় দেখাই। পূর্ব পরিকল্পনানুযায়ী আবু হাসান ও মোঃ আলাউদ্দিন কালু আমার ওই অভিনয় করা চিত্র গোপনে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে কিছুক্ষন অবস্থান করে আমার অফিস থেকে যায়। পরবর্তীতে ওই অভিনয় করা গোপনে ধারণ করা ভিডিও দিয়ে আমাকে নানাভাবে ব্লাকমেইল করা শুরু করে।
ওই ভিডিও নিয়ে শহরের বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের দিয়ে আমাকে অপহরণ করে তুলে নিয়ে জিম্মি করে টাকা আদায়সহ মারধরও করে। এক পর্যায়ে ওই ভিডিও আমার মাই টিভি কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়ে আমাকে চাকুরীচ্যুত করায়। এমন ঘটনা গত দু্ বছর যাবৎ চলমান থাকাবস্থায় আমার সন্তানদের লেখাপড়া বিঘ্ন ঘটানোসহ পারিবারিকভাবে আমাকে অতিষ্ঠ করে তুলে। এরই মধ্যে গত ৩১ জানুয়ারী বিকেলে নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গন থেকে বের হবার সময় উল্লেখিত আবু হাসান, মোঃ আলাউদ্দিন কালুসহ মোহাম্মদ সায়মুন ইসলাম (৩৫) ও তার সাথে আরো ৫/৬ জন ব্যাক্তি আমাকে মারধর করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে আমার সাথে থাকা ২০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে ফের খানপুরের চৌরঙ্গি পার্ক এলাকায় মারধর করে । মারধরের এক পর্যায়ে ৩শ টাকার ৩টি সাদা স্ট্যাম্পে দস্তখত করিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে । ফের মোবাইল ফোন ফেরত দিয়ে টাকা রেখে আমাকে ছেড়ে দেয় এবং মারধর করা ভিডিও ধারণ করে আমাকে দেখিয়ে সায়মুন ইসলাম বলেন, ‘১০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে এবং এই ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলবে।’
পরে খোজ নিয়ে জানতে পারি, এই মোহাম্মদ সায়মুন ইসলাম নাারয়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিয়ে করে এই এলাকাতে শত শত অটো রিক্সা থেকে ১৫ শত টাকা হারে চাঁদাবাজি সহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে । আর এই অপরাধ কর্মকান্ড ধামাচাপা দিতে একটি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করে কখনো নিজেকে সেনাবাহিনীর সেকেন্ড লেফটেন্টে, কখনো মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, কখনো নারায়ণগঞ্জের ডিসি ও এসপির ঘনিষ্টজন পরিচয় দিয়ে এমন সকল ধরণের অপরাধ কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে ।
একই সাথে তার এই অপরাধ নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে আমাকে মনে করতো আমি এই সংবাদ প্রকাশের মূল সাংবাদিক আমি। একই সাথে মোহাম্মদ সায়মুন ইসলাম নিজেকে প্রকাশক সম্পাদক পরিচয় দিয়ে নারায়ণগঞ্জে অপরাধ সাম্রাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে ।
আর আমাকে ওই ১০ লাখ টাকা চাঁদার জন্য মোহাম্মদ সায়মুন ইসলাম, আবু হাসান, মোঃ আলাউদ্দিন কালু আমাকে ও আমার পরিবারকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এ বিষয়ে ১ ফেব্রুয়ারী ফতুল্লা থানায় অভিযোগ করলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দিয়ে মোহাম্মদ সায়মুন ইসলাম, আবু হাসান, মোঃ আলাউদ্দিন কালুর কাছ থেকে অভিযোগ নিয়ে আমার বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে ফের হয়রানী শুরু করে। এমন খবরে আবার খোজ নিয়ে জানতে পারি সায়মুন ইসলাম ও আবু হাসান ফতুল্লা থানা পুলিশের নাম ব্যবহার করে এবং নিজেদেরকে থানার ওসির ক্যাশিয়ার পরিচয় দিয়ে অটো রিক্সাসহ সর্বত্র চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে ।
অতএব, মহাশয়ের নিকট আমার আকুল আবেদন মানবিক কারণে আমাকে ও আমার পরিবারকে শান্তিতে বসবাস করার জন্য এবং উল্লেখিত অপরাধীদের দমন করতে আপনার সহানুভূতি প্রদান কর আমাকে কৃতজ্ঞ দানে বাধিত করিবেন।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ