দীর্ঘ ১৫ বছর নির্বাচন নেই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায়। এবারেও হবে কিনা এমন কোনো নিশ্চয়তা এখন পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না। সীমানা সম্পর্কিত জটিলতায় আদালতে একটি রিট আবেদন থাকায় সারা দেশে উপজেলা নির্বাচন হলেও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় তা হয়না ১৫ বছর হয়ে গেছে। এই জটিলতার নিরসন করে নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগও কেউ নেয় না। যার ফলে গত ১৫ বছর যাবত বিএনপি নেতা এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বিএনপি নেতাকে চেয়ারম্যান হিসেবে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের পছন্দ না হলেও তাদেরকে মেনে নিতে হচ্ছে।
নির্বাচন আয়োজন করলেই আওয়ামীলীগ থেকে এই পদে একজনকে মনোনয়ন দিতে হবে। আর এই মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় রয়েছেন ওসমান সামাজ্যের তিন স্তম্ভ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবু হাসনাত শহীদ মো: বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল। এদের যে কোনো একজনকে মনোনয়ন দেয়া হলে বাকি দুজনের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে শঙ্কায় বিএনপির আজাদ বিশ্বাসই আস্থা রাখেন শামীম ওসমান, একটি মনোনয়নের জন্যে শামীম ওসমান তার সুখের ঘরে দু:খের আগুন লাগাতে চান না বলেই মনে করেন সদর উপজেলাবাসী।
জানা যায়, সর্বশেষ ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ সময় বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন গঠিত হলে সদর উপজেলার কিছু অংশ সিটি কর্পোরেশনে চলে যায়।
এদিকে সদর উপজেলার কিছু এলাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠন হওয়ায় ওই সব এলাকা বাদ দিয়ে উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ (২০০৯ সনের ৩০ জুন সংশোধিত) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার সদর উপজেলা পুর্নগঠন করে। ২০১৪ সালের ৪ মার্চ এ সংক্রান্ত একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়। এ গেজেট অনুযায়ী কয়েকটি এলাকা বাদ দিয়ে উপজেলার নতুন সীমানা নির্ধারণ হওয়ায় উচ্চ আদালতে একটি রিট করা হয়। যার পিটিশন নং-৩০৮৯। এ রিট করেন ফতুল্লা চৌধুরী বাড়ির মৃত সুলতান বক্স চৌধুরীর ছেলে মো. আসাদউদ্দিন চৌধুরী, পশ্চিম মাসদাইরের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে বজলুর রহমান ও কাশিপুর উত্তর গোয়ালবন্দের হেলালউদ্দিন মুন্সীর ছেলে মো. হামিম মুন্সী।
সূত্রমতে, রিট আবেদনকারী প্রত্যেকেই উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের লোক হিসেবে পরিচিত। আর তাদের করা সীমানা সংক্রান্ত এই মামলার অজুহাতে নির্বাচন না হওয়ায় দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ উপজেলার চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন তিনি।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ