এবারও বঞ্চিত করা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক এডভোকেট মাহাবুবুর রহমানকে। আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচনেও তাকে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে না বলে বিশস্বাস্থ্য সূত্রে জানা গেছে। যার ফলে মাহাবুবুর রহমানের সমর্থকদের মাঝে বেশ হাতাশা বিরাজ করছে। কারণ নারায়ণগঞ্জের আদালত পাড়ায় আওয়ামী লীগের আইনজীবী নেতাদের মাঝে এডভোকেট মাহবুবুর রহমানের ব্যাপক গ্রহনযোগ্যতা রয়েছে।
আদালত পাড়ায় তিনি একজন ভালো মানুষ হিসাবে পরিচিত এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। একেবারে তৃনমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা এই আইনজীবী নেতা সরাসরি সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান এবং একেএম সেলিম ওসমানের পৃষ্টপোষকতায় পর পর দুইবার সেক্রেটারী পদে এবং তার আগে অন্যান্য পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ সালে তিনি দুই বার নির্বাচিত হয়ে জেনারেল সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করেন। তখন তার সাথে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন এডভোকেট মহসিন মিয়া।
এছাড়া, এর আগে ২০১৮-১৯ এবং ২০১৯-২০ সালে তিনি দুই বার যুগ্ম সাধারন সম্পাদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর আগে ২০১২-১৩ সালের নির্বাচনে তিনি স্পোর্টস এন্ড কালচারাল সেক্রেটারী নির্বাচিত হয়েছিলেন। এক কথায় এডভোকেট মাহবুব বার বার জনপ্রিয়তার স্বাক্ষর রেখেছেন। গোটা কোর্ট পাড়ায় তিনি একজন ভালো মানুষ হিসাবে পরিচিত। কিন্তু তাকে সাম্প্রতিক সময়ে এসে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে সাধারন আইনজীবীরা এবং আওয়ামী লীগের আইনজীবীরা জানিয়েছেন। তার সঙ্গে কিছুটা বঞ্চিত হয়েছেন এডভোকেট মোহাম্মদ মহসিন মিয়াও।
কেননা, এর আগে তিনিও এই এসেসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে গত নির্বাচনে তাকে আবার সাধারন সম্পাদক পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়। মূলত এভাবেই নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ায় এখন আওয়ামী লীগের আইনজীবীদের মাঝে নানা রকম তেলেসমাতি কান্ড ঘটানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। একটি মহল মহসিন ও মাহবুব জুটিকে বেশিদূর এগুতে দিতে চাইছে না।
এদিকে, সাধারন আইনজীবীরা আরো জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বার এসোসেসিয়েশন নির্বাচনে সম্প্রতি যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে এই প্যানেল থেকে যাকে মনোনয়ন দেয়া হোক তিনিই জয়ী হবেন। কারণ, এখানে এখন বিএনপির প্যানেল যথেষ্ঠ দূর্বল। দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারনে অনেকটা দূর্বল বা কোনঠাসা হয়ে পরেছে বিএনপির প্যানেলটি। এমন কি বিএনপির আইনজীবী নেতাদের অনেকে এখনো মামলার আসামী হওয়ার কারনে প্রকাশ্যে আসতে পারছেন না। তাই এবারও আওয়ামী লীগের পূরো প্যানেল বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাই এবারের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্যানেল থেকে জয়ী হতে খুব একটা যোগ্যতার বা জনপ্রিয়তার দরকার পরবে না বলেই মনে করেন সাধারন আইনজীবীরা। কারন এই প্যানেল থেকে যে পদেই হোক না কেনো মনোনয়ন পেলেই পাশ। তাই এখন নির্বাচন করার আগ্রহী প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। যার ফলে মাহবুবুর রহমানের মতো জনপ্রিয় এবং যোগ্যতম প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সাধারন আইনজীবীরা। তাই এ বিষয়ে সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, সেলিম ওসমান এবং আওয়ামী লীগের সিনিয়র আইনজীবীদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।