পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র একদিন বাকি এর মধ্যে এখনো ফতুল্লার গরুর হাটগুলোতে ক্রেতা ভীড় কম। গতবছরের তুলনায় হাট গরুতে গরুর চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় গরুর ব্যবসায়ীরা পড়েছে বিপাকে।
ঈদ উপলক্ষে এবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোরবানির পশু নিয়ে নারায়ণগঞ্জে এসেছে খামারিরা। এ বছর জেলার সিটি করপোরেশন এলাকাব সহ পাঁচটি উপজেলাধীন স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে মোট ৯১ টি কোরবানির পশুর হাট বসেছে। জেলায় এবার সোয়া এক লাখ গরুর চাহিদা থাকলেও ইতোমধ্যে এখনো পুরোপুরিভাবে জমে উঠেনি গরুর হাটগুলো। তবে এবার দেশীয় গরুর পাশাপাশি হাটগুলোতে বিদেশী ভারতীয়,নেপালি,পাকিস্তানি ও অস্ট্রেলিয়ান গরু স্থান পেয়েছে।
বিক্রেতারা বলছেন, হাটে পশুর সরবরাহ বেশি থাকলেও ক্রেতা কম। তবে হাটের শেষ পর্যায় গরুর বিক্রির ধুম বারতে পারে।
এদিকে ক্রেতারা জানান, গত বছরের চেয়ে এবার গরুর দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে।যেখানে গতবছর মাঝারি বা বড় সাইজের গরু যে মূল্যে বিক্রি হয়েছে এবার ছোট সাইজের গরু বিক্রি হচ্ছে সেই দামে।এক থেকে দেড় লাখ টাকার নিছে পাওয়া যাচ্ছে না কোন গরু হাটগুলোতে।
সরেজমিনে ফতুল্লা ডিআইটি, আলীগঞ্জ, পাগলার তালতলা গরুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, গরুর হাটগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা একেবারেই কম। কেউ দাম হাঁকাচ্ছ আবার কেউ দর দাম বলে চলে যাচ্ছে। এদিকে বিক্রেতারা ও গরুর দাম ছাড়ছে না। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর গরুর দাম অনেকটা বেশি বলে দাবি ক্রেতাদের।
ফতুল্লার গরুর হাটে সিরাজগঞ্জ থেকে আসা গরুর ব্যবসায়ী আফজাল জানান,গত ১০ দিন ধরে ফতুল্লা গরুর হাটে ১৬টি গরু নিয়ে এসেছে।এখন পর্যন্ত একটা গরুও বিক্রি হয়েনি।ক্রেতারা আসে দাম জিজ্ঞাসা করে চলে যায়।
একই হাটে চুয়াডাঙ্গা থেকে ৫১টি গরু নিয়ে আসা গরুর ব্যবসায়ী ফয়সাল জানান,গত ৮ দিন্ধরে এসেছে। এর মধ্যে মাত্র ১০ টি গরু বিক্রি করতে পেরেছে।সোয়া ১ লাখ থেকে ধরে সাড়ে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে গরু।তবে গতবছরের তুলনায় গরুর ক্রেতার সংখ্যা কম কিন্তু দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি।
একই কথা জানালেন পাবনা থেকে আসা এক গরুর ব্যবসায়ী ফকির মিয়া।তিনি জানান গত ৪ দিন ধরে এসেছি এখন পর্যন্ত একটা গরুও বিক্রি করতে পারি নাই।
অন্যদিকে আলীগঞ্জ গরুর হাটে ফরিদপুর থেকে আগত গরুর বেপারী মোঃইদ্রিস জানান,৮টা গরু নিয়ে আসছি তিন হলো মাত্র একটা গরু বিক্রি হয়ছে।ক্রেতারা এসে আমার কেনা দাম থেকে কম দাম বলে যায়।
সিরাজগঞ্জ থেকে আগত মানিক মিয়া জানান,দুইটা গরু আনছি। কিনছি ১ লাখ ৪০ হাজার দিয়ে। ৬ মাস লালন পালন করছি। এখানে আনার খরচ হয়েছে। কিন্তু ক্রেতারা এসে আমার কিনা দাম থেকে আরো কম দাম বলে।
একই হাটের ফরিদপুর থেকে আসা আরেক বেপারী মনির খান ২৬ টায় ১ টা গত তিন দিনে। কিনা দাম থেকে ১৫-২০ বিশ হাজার টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। গরু ক্রেতার তুলনায় দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি।অনেকে গরু দেখে নদীর পাড়ে চলে যায় কিন্তু গরু কিনে না কেউ।
এদিকে হাটগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নদী ও সড়ক পথে কেউ গরু নিয়ে টানা হিঁচড়া করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও প্রতিটি হাটে জাল টাকা শনাক্তের মেশিন বসানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ পুলিশ প্রশাসন থেকে।কারো বিরুদ্ধে অনিয়ম করার অভিযোগ পাওয়া গেলেই সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ