ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগস্ত উপকুল এলাকাগুলো থেকে পানি সরে গেলেও নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর উপজেলাধীন ফতুল্লা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের আওতাধীন ইসদাইর, গাবতলী, বটতলা, কাপুইরা পট্টি, গাবতলী মাজারসহ আশেপাশের এলাকার মানুষ এখনো পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। স্থানীয় মেম্বার আব্দুল আউয়ালের হঠকারি সিদ্ধান্তের কারণে দীর্ঘ সময়ের পানি নিস্কাশেনের পথটি বন্ধ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে পানির মধ্যে চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছে অন্তত লক্ষাধিক মানুষ।
স্থানীয়রা জানায়, ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের বৃহত্তর ইসদাইর, গাবতলী, ফতুল্লা এবং এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন এলাকাসহ আশেপাশের এলাকার পানি নিস্কাশন হতো আউয়াল মেম্বারের এলাকাধীন বটতলা দিয়ে। এটিই ছিলো সমগ্র অঞ্চলের পানি নিস্কাশনের একমাত্র পথ। এলাকাবাসীর সাথে কোনো আলাপ আলোচনা না করে হঠাৎই এই রাস্তাটির মাত্র ত্রিশ ফুট সংস্কারের নামে আরও উচু করে ঢালাই দেন আউয়াল মেম্বার। সঙ্গে তিনি ড্রেনের স্লাভের উপরেও ঢালাই দিয়ে পানি চলাচল বন্ধ কে দেন। এরপর থেকেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে থাকে পুরো এলাকায়। দুদিন আগের বৃষ্টিতে গোটা এলাকা ডুবে যায়। এমন কি আউয়াল মেম্বারের নিজের এলাকার মসজিদও ডুবে যায়।
সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে টানা ২দিনের বৃষ্টিতে তীব্র জলাবদ্ধতার দেখা দেয় গোটা অঞ্চলে। বৃষ্টির পানি নিস্কাশনের পথটি উচু করায় পানি নামতে পারছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে বৃষ্টির পানিতে মানুষের দোকানপাট, বাড়ি-ঘর ও আসবাবপত্র এবং স্কুল মসজিদ তলিয়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সবচেয়ে ক্ষত্রিগ্রস্ত উপকুল এলাকাগুলো থেকে পানি নেমে গেলেও ইসদাইর-গাবতলীসহ আশেপাশের এলাকার পানি কোনো ভাবেই নামছে। গত দুই দিনে এক ফোটাও পানি কমেনি।
স্থানীয়রা আরও জানায়, ঘূর্ণিঝড়ের দিন থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সময়ে এলাকায় যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে চায় না গোটা এলাকায়। ফলে এই পানি মাড়িয়েই দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। পানিতে ভিজে বাচ্চাদেরকে স্কুলে যেতে হচ্ছে, কর্মজীবীদেরও পানি মারিয়েই যেতে হচ্ছে কর্মস্থলে। ফলে গোটা এলাকায় জনজীবনে এক স্থবিরতার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ড্রেন উচু করা ও জলাবদ্ধতার বিষয়ে জানতে চাইলে ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল আউয়াল বলেন, একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। ড্রেনটি ভেঙ্গে যাচ্ছিলো, সংস্কার করেছি, ড্রেন উচু হয়নি। ড্রেনের স্লাব ও রাস্তাটি সামান্য কয়েক ইঞ্চি উচু হয়েছে, কিন্তু এতে পানি নিস্কাশনের কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। তারপরও ইউএনও স্যারের নির্দেশে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফাইজুল ইসলাম সরেজমিন পরিদর্শন করে গেছেন। এসময় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জীবন ও কামরুল হাসান মেম্বারও উপস্থিত ছিলেন। এই ড্রেনটি বর্তমানে ১ ফুট চওড়া আছে, আমরা এটিকে ৩ ফুট চওড়া ও ৭০ ফুট লম্বা করে পুনঃনির্মাণ করার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প পাঠিয়েছি। আগামী ২/৩ মাসের মধ্যেই এই কাজ সম্পন্ন হতে পারে। এই কাজ সম্পন্ন হলে, এই অঞ্চলে আর পানি জমবে না।
উল্লেখ্য, ফতুল্লার লালপুর, পৌষাপুকুর, টাগারপাড়, গাবতলী, ইসদাইর, মডার্ন হাউজিং এলাকার পানি নিস্কাশনে নানা পদক্ষেপ নেয়ায় গতকাল সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানায় এলাকাবাসী। এসময় পানি নিস্কাশনে পাম্প চালানোর জন্য ব্যক্তিগত তহবিল থেকে একটি ট্রান্সফরমার কিনে দেয়ার ঘোষণা দেন শামীম ওসমান। একইসাথে বিদ্যুৎ বিভাগে ফতুল্লা এলাকার বকেয়া ৯০ লাখ টাকা মওকুফ করতে জ¦ালানী ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর কাছে চিঠি দেয়া হবে বলে জানান তিনি। এছাড়া, আগামীতে যে বিদ্যুৎ বিল হবে তা কিভাবে পরিশোধ করা যায় তা নিয়েও কাজ করবেন বলে জানান এই সংসদ সদস্য। শামীম ওসমান এসময় বলেন, আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে একটি ট্রান্সফরমার কেনার টাকা দিচ্ছি। যা দিয়ে পাম্প চালানো হলে ২/৩ দিনের মধ্যে ফতুল্লার গোটা অঞ্চলের জলাবদ্ধতা দুর হবে।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ