অনৈসলামিক কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি, কিশোরগ্যাং এর মদদদাতা, চুরি, ছিনতাই, পরক্রিয়াসহ অসংখ্য অভিযোগের প্রেক্ষিতে মসজিদ কমিটির উপদেষ্টা পদ ও সহ-সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি কাজী মহসীন ও তার ছোট ভাই যুবসংহতি থেকে স্বেচ্ছাসেবকলীগে অনুপ্রবেশকারী কাজী ওয়াসিমকে। আজ ৩মে শুক্রবার নাসিক ৮নং ওয়ার্ডস্থ গোদনাইল বউবাজার ক্যানেলপাড়া আল মদিনা জামে মসজিদে জুম্মার নামাজের সময় উপস্থিত মুসল্লিদের সামনে বহিস্কারের কথা জানান অত্র মসজিদের মোতওয়াল্লি মো. সেলিম ভূঁইয়াø। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জুম্মার নামাজের পর জাতীয় পার্টির নেতা কাজী মহসিন, তার ভাই কাজী ওয়াসীম ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা মসজিদের মুতওয়াল্লী ও কমিটির লোকজনদের অশ্লীল গালি-গালাজ ও মারধর করে এ সময় উত্তেজিত মুসল্লিরা ধাওয়া করলে দুপক্ষে মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। মুসল্লিদের ধাওয়া খেয়ে কাজী মহসীন ও কাজী ওয়াসিম তার সাঙ্গ-পাঙ্গ নিয়ে কাজী মহসীনের ৫তলা বিল্ডিং এ আশ্রয় নেয়। এ সময় মুসল্লিরা রাস্তায় জড়ো হলে কাজী মহসীনের নেতৃত্বে কাজী ওয়াসীম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী আগে থেকে ছাদে রাখা বড় বড় ইট দিয়ে মুসল্লিদের উপর হামলা চালায়। খবর শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুর রহিম। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করেন। এরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যান নাসিক ৮নং ওয়ার্ড জনপ্রিয় কাউন্সিলর রুহুল আমীন মোল্লা। তিনি গিয়ে কাজী মহসীনের ও মসজিদ কমিটির লোকদের কথাশুনে তার মিমাংশা করার জন্য আগামী রবিবার দিন ধার্য্য করেন। এদিকে মসজিদ কমিটির লোকজন ও স্থানীয় মুসল্লিরা কাজী মহসীন ও কাজী ওয়াসিমের কঠোর বিচার দাবী করেন। অন্যথায় তারা মানববন্ধনসহ বড় ধরনের কর্মসূচী গ্রহন করবেন বলে জানান।
(জাতীয় পাটি নেতা কাজী মহসীন ও তার ভাই কাজী ওয়াসীমের নেতৃত্বে কাজী মহসীনের বাড়ীর ছাদ থেকে মসল্লিদের ইট ছুড়ে মারার দৃশ্য)
ঘটনাস্থলে উপস্থিত মুসল্লিরা ক্ষোভের সাথে জানান, কাজী মহসীন ও তার ভাই কাজী ওয়াসিম বিভিন্ন অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত। তাদের রয়েছে বিশাল কিশোরগ্যাং। এই বাহিনী চুরি, ছিনতাই, অপহরন, পরক্রিয়াসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। কাজী মহসীনের বিরুদ্ধে রয়েছে ওএমএস ডিলার হয়ে দুর্নীতির অভিযোগ। তার পরক্রিয়ার তার স্ত্রী হাতে নাতে ধরেন যা পরবর্তীতে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কাজী মহসীন ও তার ভাই কাজী ওয়াসীমের কারনে এলাকার কোন ভাড়াটিয়া শান্তিতে থাকতে পারে না। কারণ তার বাহিনী বিভিন্ন অপরাধ করে আর কাজী মহসীন ও ওয়াসীম তাদের সেল্টার দেয়। অন্যের বাড়ী ভাড়াটিয়াদের অপহরন করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মোটা অংকের টাকা দাবি করে। যার ফলে তাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়। বাড়ী বাড়ী গিয়ে কাবিন চেক করে টাকা হাতিয়ে নেয় কাজী মহসীনের সাঙ্গ-পাঙ্গরা। এই সকল অভিযোগ জানার পর এবং বিভিন্ন সময় তাদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় সংবাদের জেরে মসজিদের সুনামের কথা চিন্তা করে সকলের সম্মতিতে মসজিদ কমিটি থেকে কাজী মহসীন ও তার ভাই কাজী ওয়াসীমকে আজ বহিস্কার করার কথা মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিদের জানানো হয়। এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে নামাজের পর কাজী মহসীন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী মসজিদের মোতাওয়াল্লী ও মসজিদ কমিটির লোকদের উপর হামলা চালায়। এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকেল ৪ টায় মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশিস্ট ব্যবসায়ী মো. শামীম হাসান ও মোতওয়াল্লি মো. সেলিম ভূঁইয়া সাংবাদিক সম্মেলন করে কাজী মহসিন, তার ভাই কাজী ওয়াসীম ও তাদের বাহিনীর বিভিন্ন অন্যায় অপকর্ম তুলে ধরেন। শামীম হাসান বলেন, বিভিন্ন সময় মসজিদের অনুদান আত্মসাৎ ও এলাকায় নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকায় মসজিদ কমিটির সভায় প্রধান উপদেষ্টা পদ থেকে কাজী মহসিন ও সহ-সম্পাদক পদ থেকে তার ছোট ভাই কাজী ওয়াসিমকে বহিষ্কার করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর মোতাওয়াল্লি সেলিম ভূঁইয়াসহ কয়েকজন সদস্যকে মারধর করেন কাজী মহসিন ও তার লোকজন।
মসজিদের মোতাওয়াল্লি মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় মসজিদ কমিটির সভায় অশালীন কথা বলার প্রতিবাদ করায় মহসিন আমার ওপর ক্ষিপ্ত হন। সভাতেই তিনি আমাকে মারধর ও দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। পরে আমি তার বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করি। রাতের সভায় মহসিন ও তার ভাইকে কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তা জুমার নামাজের আগে মুসল্লিদের জানিয়ে দেই। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়েই মহসিন ও তার লোকজন আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনার তিনি বিচার কঠোর বিচার দাবী করেন। এ ঘটনায় নাসিক ৮নং ওয়ার্ড জনপ্রিয় কাউন্সিলর রহুল আমিন মোল্লা বলেন, মসজিদ কমিটির দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিরোধ নিস্পত্তি করতে আগামী রবিবার সকালে আমার কার্যালয়ে বৈঠকে বসার দিন ঠিক করা হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুর রহিম বলেন, মসজিদ কমিটির দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর শুনেছি। পরে এ বিষয়ে খোঁজ নিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাইনি। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি কাজী মহসিন ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার কথা স্বীকার করলেও বাকী সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন শুক্রবার বাদ জুমা আমাকে ধাওয়া ও আমার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে মসজিদ কমিটির লোকজন।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ