নীল রঙের জামাটি ভারি পছন্দ হয়েছে আহমেদের। বিশেষ করে গলার সুতার কাজটি। কিন্তু দোকানি দাম কমাচ্ছিলেন না তেমন। ৭০০ টাকা বেঁধে দিয়ে সেখানেই অনড়।
শেষ পর্যন্ত ‘আপনার কথাও থাক, আমার কথাও থাক’ বলে সমঝোতায় এলেন ক্রেতা। এগিয়ে দিলেন সাড়ে ছয় শ টাকা। বিক্রেতা এবার ব্যাগে ভরে দিলেন জামাটি।
শনিবার নারায়ণগঞ্জের নবাব সলিমুল্লাহ সড়কের ফুটপাতে ঈদের কেনাকাটার দৃশ্য এটি।
বড়-ছোট নানা মাপের ও মানের বিপণিবিতানের পাশাপাশি ফুটপাতের ঈদের বাজারও জমে গেছে। ফুটপাতের পণ্যের ক্রেতা একেবারে নিচের আয়স্তর থেকে নিম্নমধ্যবিত্ত পর্যন্ত। সেখানেও শোনা গেল দাম নিয়ে অনুযোগ। আহমেদ সোনারগাঁ থেকে এসেছিলেন ঈদের কেনাকাটা করতে।
তিনি জানালেন, বিপণিবিতানে দুই ঘণ্টা ঘুরেও কিছুই কিনতে পারেননি। পছন্দ হলেও দামে মেলাতে না পেরে ফুটপাতে এসেছেন। সেখানেও ছোট বোনের জন্য ‘ওয়ান পিস’ জামা কিনতে তাঁর সাড়ে ছয় শ টাকা চলে গেল। এর সঙ্গে মিলিয়ে পাজামা ও ওড়না কিনতে হবে। সব মিলিয়ে বাজেট থেকে কয়েক শ টাকা বেশি গুনতে হবে।
রমজানের ১৯তম দিনে হলিডে মার্কেট ছিল মৌসুমি পোশাক বিক্রেতাদের দখলে। এসব দোকানে ঈদের জন্য ওঠা সব ধরনের পোশাকই রয়েছে। মানে যাই হোক, অন্তত নকশায় ও রঙে সেসব পোশাক আকর্ষণীয়ও বেশ। তুলনায় কমদামে কেনা যায় বলে নির্দিষ্ট শ্রেণির ক্রেতার ভিড়ও মন্দ নয়।
তবে বিক্রেতারা বলছেন, এবার এখনো গতবারের মতো বিক্রি জমেনি। প্রচুর ক্রেতা আসছেন ঠিকই, কিন্তু পছন্দ হলেও দাম শুনেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন অনেকে। অন্যদিকে ক্রেতাদের বক্তব্য, এবার প্রতিটি পোশাকে কমপক্ষে দুই থেকে তিন শ টাকা বেশি মূল্য রাখা হচ্ছে। ফুটপাতের হিসাবে এই ব্যবধানটা বড়ই।
আহমেদের মতে, গত বছরও বোনের জন্য তিনি বিবি রোড থেকে একই ধরনের জামা কিনেছেন সাড়ে চার শ টাকায়। বঙ্গবন্ধু সড়ক, ফ্রেন্ডস মার্কেটের সামনের সড়ক ও আশপাশের ফুটপাতের দোকানে ছিল প্রচুর মানুষের ভিড়। আশপাশের জনপ্রিয় বিপণিবিতানগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দামদর আর কেনাকাটা হয়েছে সেখানে।
একই দিনে হলিডে মার্কেটে এসেছিলেন রাবেয়া ও তাঁর ছোট বোন রোদসী। দুজনই শিক্ষার্থী। ঈদের জন্য পোশাক, প্রসাধনী ও সাজসজ্জার জিনিসপাতি কেনার পরিকল্পনা তাঁদের। রাবেয়া বললেন, বিপণিবিতানে দুই ঘণ্টা ঘুরেছেন তাঁরা। তারপর ফুটপাত থেকেও একই নকশার দুটি জামা কিনেছেন। তাঁরাও বললেন, এবার পোশাকের বাজার বেশ চড়া।
পোলো ও টি-শার্ট বিক্রয় করছিলেন সাইদুল ইসলাম। এক দরের নোটিশ টানিয়ে প্রতিটি পোলো শার্ট ৩০০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি। সাইদুল বলেন, ফুটপাতে কেনাকাটা করতে এসে ক্রেতারা দামদর করতেই থাকেন। এবার পোশাকের দাম বেশি। একটি পোলো শার্ট কোনোভাবেই ৩০০ টাকার কমে বেচা সম্ভব নয়। তাই বেশি কথা ও ঝামেলা এড়াতে একদরের নোটিশ টাঙিয়েছেন। তার পরও ক্রেতারা দামাদামি করছেন।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ