চৌধুরীবাড়ী ব্যবসায়ী এসোসিয়েশনের সভাপতি মহসীন ভুইয়া ইস্যুতে দুরত্ব বাড়তে পারে নাসিকের দুই জনপ্রিয় কাউন্সিলর হাজী ইফতেখার আলম খোকন ও রুহুল আমীন মোল্লার মধ্যে। এমনটাই আভাস দিয়েছেন সচেতন মহল। কাউন্সিলর হাজী ইফতেখার আলম খোকন মহানগর আ.লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক। তিনি পর পর দুইবার বিপুল ভোটে নাসিক ১০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের উন্নয়নের রুপকার সংসদ সদস্য জননেতা একেএম শামীম ওসমানের অত্যান্ত আস্তাভাজন ও পরিক্ষীত কর্মী হিসেবে সবার কাছে পরিচিতি। অপরদিকে নাসিক ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ¦ রুহুল আমীন মোল্লা পর পর তিন বার বিপুল ভোটে কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি জেলা যুবলীগের সদস্য। এক সময় তিনি অন্য একজনের অত্যান্ত ঘনিষ্ঠ লোক ছিলেন। কিন্তু গত ১০ বছরে বিভিন্ন কর্মকান্ডে জননেতা একেএম শামীম ওসমানের খুব কাছের লোকদের মধ্যে কাউন্সিলর রুহুল অন্যতম। এমপি শামীম ওসমানও কাউন্সিলর রুহুলের বিভিন্ন কর্মকান্ডে খুশি হয়ে তাকে অনেক আদর-স্নেহ করে থাকেন। নাসিক ৮ ও ১০ নং ওয়ার্ড পাশাপাশি হওয়ায় এই দুই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাজী খোকন ও আলহাজ¦ রুহুল আমীনের মধ্যে রয়েছে বন্ধত্বপূর্ন সম্পর্ক। কারন তারা দুজনই ওয়ার্ডবাসীর নয়নের মনি। ওয়ার্ডবাসী তাদেরকে অত্যান্ত ভালোবাসেন। তাদের আচার-আচারন, বথাবর্তায়, নিরোপেক্ষ বিচার-শালিসে অনেক মিল রয়েছে। তারা দুজনই আ.লীগের নিবেদিত প্রাণ। আওয়ামীলীগের জন্য তারা দুজনই যেকোন ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত যার প্রমান স্থানীয় আ.লীগ নেতৃবৃন্দ দেখেছে। দলের স্বার্থে আজ পর্যন্ত তারা কোন অন্যায়কারীদের সাথে আপোষ করেননি। এমপি শামীম ওসমানের আস্থাভাজনের তালিকায় তারা অন্যতম। যার ফলে এই দুই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাজী খোকন ও আলহাজ¦ রুহুল একত্রিত হয়ে তাদেরর নিজ নিজ ওয়ার্ডের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করেছেন। একজনের বিপদে অন্যজন ঢালের মতো পাশে দাড়িয়েছেন। সার্পোট দিয়েছেন, সহযোগীতা করেছেন। যার ফলে পাশাপাশি হবার পরও দুই ওয়ার্ডবাসীর মধ্যে কোন ধরনের কোন্দল, দন্ধ সৃষ্টি হয়নি। দুই কাউন্সিলরের বন্দুত্বপূর্ন সম্পর্কের কারনে নাসিক ৮ ও ১০ নং ওয়ার্ডবাসীও নিজেদেরকে পৃথক পৃথক ওয়ার্ডবাসী না ভেবে ভাই ভাইয়ের মতো আচরন করে যাচ্ছে। যার প্রমান হলো, ৮নং ওয়ার্ডে কোন প্রগ্যার্ম হলে ১০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে অতিথির তালিকায় রাখা হয়। আবার ১০নং ওয়ার্ডের কোন প্রগ্যাম হলে ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে অতিথির তালিকায় রাখা হয়। কারন, এই দুই ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা চান না তাদের বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্কের মধ্যে ফাটল ধরুক। তাই তারা কোন প্রগ্যাম হলে আয়োজকদের বলে দেন পাশ^বর্তী ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে অতিথি রাখার জন্য। এটাই হলো ভালোবাসা, বন্ধুত্ব। তারা এক সাথে চলতে চলতে একজন আরেকজনবে খুবই ভালো ভাবে বুঝতে পারেন। বর্তমানে চৌধুরীবাড়ী ব্যবসায়ী এসোসিয়েশনের সভাপতি মহসীন ভুইয়ার বিরুদ্ধে পকেট কমিটি, দুর্নীতি, ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে চাদাবাজি, ব্যবসায়ীদের মারধর বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ব্যবসায়ীরা ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুহুল আমীন মোল্লার হস্তক্ষেপ চান। ওয়ার্ড কাউন্সিলর হওয়ায় ব্যবসায়ীদের দাবীর প্রেক্ষিতে নিজের কোন স্বার্থ না থাকার পরও চৌধুরীবাড়ী ব্যবসায়ী এসোসিয়েশনে কাউন্সিলর রুহুল আমীন মোল্লা হস্তক্ষেপ করেন। তিনি ব্যবসায়ীদের দাবীর প্রেক্ষিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় তিনি বর্তমান সভাপতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কারো সাথে আমার শত্রুতাও নেই, আবার কারো সাথে আমার বন্ধুত্বও নেই। আমি আপনাকে বলতে চাই যদি আপনার জনপ্রিয়তা থাকে তাহলে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করলে আমি আপনাকে সবার প্রথমে স্বাগত জানাবো। এদিকে মহসীন ভুইয়াও আ.লীগের একজন নিবেদিত প্রাণ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে এমপি শামীম ওসমানের আস্থাভাজনদের তালিকায় মহসীন ভুইয়াও রয়েছেন। এদিকে মহসীন ভুইয়ার বিষয়টি, তার পকেট কমিটি, তার দুর্নীতি ব্যবসায়ীদের নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবীর বিষয়টি এমপি শামীম ওসমানকে অবগত করা হয়েছে। তিনি এই মুহুর্তে কাউকে ছাড়তে চান না। যারা দলের জন্য, ওসমান পরিবারের জন্য কাজ করেছেন তাদেরকে শামীম ওসমানকে কখনো হাত ছাড়া করেননি আর করবেনও না। যদি তাদের মধ্যে ভুল থাকে তা শুধরাতে সুযোগ দিয়ে থাকেন শামীম ওসমান। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে মহসীন ভুইয়া নির্বাচন করার কথা জানান শামীম ওসমান। এদিকে মহসীন ভুইয়াকে নির্বাচন বিষয়ে বুঝাচ্ছেন কাউন্সিলর হাজী খোকন। কারন কাউন্সিলর হাজী খোকনের কথা শুনে থাকেন মহসীন ভুইয়া। তাদের চলাফেরা ২০/২৫ বছরের। তাই চৌধুরীবাড়ী ব্যবসায়ীদের সমস্যা যদি মহসীন ভুইয়াকে নিয়ে দুই কাউন্সিলর হাজী খোকন ও আলহাজ¦ রুহুল আমীন এক সাথে বসেন তাহলে সমস্যার সমাধান অবশ্যই বেরিয়ে আসবে বলে শামীম ওসমান সমর্থকরা মনে করেন। এরফলে শামীম ওসমানের আস্থাভাজনদের মধ্যেও সম্পর্ক অটুট থাকবে। এমপি শামীম ওসমানও খুশি হবেন। এখন দরকার দুই কাউন্সিলরের বিচক্ষনতা। মহসীন ভুইয়ার ইস্যুতে ইতিমধ্যে দুই কাউন্সিলর হাজী খোকন ও আলহাজ¦ রুহুলের মধ্যে তৃতীয় পক্ষ হয়ে একটি শক্তি কাজ করছে বলে জানা গেছে। তারা বলাবলি করছে কাউন্সিলর রুহুল এবং কাউন্সিলর খোকনের দুরত্ব বেড়ে গেছে। তারা আলাদা আলাদা সভা করেছে চৌধুরীবাড়ী ব্যবসায়ীদের ইস্যু নিয়ে। ধারনা করা হচ্ছে, যারা এই কথা বলে বেড়াচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য দুই ওয়ার্ডের শান্তি বিনষ্ট করা, দুই কাউন্সিলরের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক নষ্ট করা। কিন্তু সত্যিকারভাবে খোজ নিয়ে জানা যায়, তারা দুজনই চাচ্ছে একটি সুষ্ঠু সমাধান। একটি শৃংখলা। তাই ওয়ার্ডবাসী ও সমাজের সচেতন মহল চান কাউন্সিলর রুহুল আমীন ও কাউন্সিলর হাজী খোকন যেনো কোন ইস্যুতে তাদের সম্পর্ক নষ্ট না করেন। তাদের বন্ধুত্বপূর্ন সর্ম্পক যেনো অটুট থাকে। এখন দেখা যাক সামনে কি হয়!
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ