জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন ৭ পার্সেন্ট করাসহ ১০ দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল ২৫ মে রবিবার অর্ধবেলা ধর্মঘট পালন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরী মালিক ঐক্য পরিষদ গোদনাইল পদ্মা, মেঘনা ও ফতুল্লার মেঘনা যমুনার ডিপো শাখার নেতৃবৃন্দ। ধর্মঘট চলাকালে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অর্ধ বেলা এই ধর্মঘট চলার কথা থাকলেও সমাধানের আশ^াস মেলায় দুপুর ১টার আগেই ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন কমিটির নেতৃবৃন্দরা। ধর্মঘট চলাকালিন সময়ে ৫ ঘন্টা পাম্প বন্ধ, একইসঙ্গে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও পরিবহন কার্যক্রম সম্পূর্ন রূপে বন্ধ রেখেছিলেন। এরফলে ডিপোগুলো তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এরফলে অভাবনীয় দুর্ভোগে পোহাতে হয় সাধারন মানুষকে। এদিকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সময় নেতৃবৃন্দ জানান, আাশ^াস দিয়েও যদি দাবি মেনে নেয়া না হয় তাহলে আগামীতে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন তারা।
ধর্মঘট চলাকালে সকালে গোদনাইল মেঘনা ডিপোতে আসেন বাংলাদেশ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মতিন মুন্সী, ট্যাংকলরী শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি নং বি-১৭৫৩ কেন্দ্রিয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, ও ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন গোদনাইল মেঘনা শাখার আহবায়ক, নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিকদলের সংগ্রামী আহবায়ক এসএম আসলাম। এছাড়াও বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্ট এন্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন, গোদনাইল মেঘনা ডিপো কমিটির আহবায়ক তানজিল হোসেন, সদস্য সচিব আব্দুস সামাদ, সদস্য গোলাম কিবরিয়া, আব্দুল কাদির, তাওলাদ হোসেন, বাংলদেশ ট্যাংকলরী ওনার্স এসেসিয়েশন গোদনাইল মেঘনা ডিপো কমিটির সদস্য মিলন ভুইয়াম, মো: ইসমাইলসহ অনেকে এবং বাংলাদেশ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন গোদনাইল মেঘনা ডিপো শাখা কমিটির সালাউদ্দিন মিয়া, হাবিব মন্ডল, মকবুল হোসেন বাবু, মাসুম, আব্দুর রাজ্জাক রব উপস্থিত ছিলেন। এরপর সকল নেতৃবৃন্দ গোদনাইল পদ্মা ডিপো এলাকায় যান। সে সময় বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্ট এন্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন, গোদনাইল পদ্মা ডিপো কমিটির সভাপতি ফজল হক, সাধারন সম্পাদক রাজিব বাংলদেশ ট্যাংকলরী ওনার্স এসেসিয়েশন গোদনাইল পদ্মা ডিপো কমিটির মাসুম ও মেহেদী এবং বাংলাদেশ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন গোদনাইল পদ্মা ডিপো শাখা কমিটির জাহিদ হোসেন, কাজী অকিল, মুন্না প্রধান, হ্নদয়, রাজিব, আল-আমিন, নুর হাফিজ, মনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এরপর দুপুরে ফতুল্লা মেঘনা ও যমুনা ডিপোতে যান। এ সময় বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্ট এন্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন ফতুল্লা ডিপো যমুনা ও মেঘনা শাখা কমিটির সভাপতি মো. সাইদুর রহমান রিপন, সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, বাংলদেশ ট্যাংকলরী ওনার্স এসেসিয়েশন ফতুল্লা ডিপো যমুনা ও মেঘনা শাখা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন ফতুল্লা ডিপো যমুনা শাখার, সাধারণ সম্পাদক, মো. সালাউদ্দিন, মেঘনা শ্রমিক ইউনিয়ন ফতুল্লা ডিপো শাখার সভাপতি, মোঃ বাচ্চু শেখ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহিন, কার্যকরী সভাপতি ইকবাল চৌধুরীসহ সকল সংগঠনের আরও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ধর্মঘট চলাকালে ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন গোদনাইল মেঘনা শাখার সংগ্রামী আহবায়ক শ্রমিকদল নেতা এসএম আসলাম বলেন, কেন্দ্রিয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আজ আমরা ১০দফা দাবীতে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরী মালিক ঐক্য পরিষদ গোদনাইল পদ্মা, মেঘনা ও ফতুল্লার মেঘনা যমুনার ডিপো শাখার নেতৃবৃন্দ অর্ধদিবস ধর্মঘট পালন করেছি। আমাদের দাবী মেনে নেয়ার আশ^াসে আমরা আমাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করলাম। ৬ ঘণ্টা ধর্মঘটের পরও যদি আমাদের ৭দফা দাবি মেনে নেওয়া না হয় তাহলে কেন্দ্রের নির্দেশে আমরা আবারো কঠোর আন্দোলন যাবো। কমিশন বৃদ্ধিসহ ১০ দফার দাবির মধ্যে রয়েছে, সওজ অধিদপ্তরের ইজারা মাশুল পূর্বের ন্যায় বহাল করা, পাম্পের সংযোগ সড়কের ইজারা নবায়নের সময় পে-অর্ডারকে নবায়ন বলিয়া গণ্যকরা, বিএসটিআই কর্তৃক আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংক ক্যালিব্রেশন, ডিপ রড পরীক্ষণ ফিস এবং নিবন্ধন প্রথা বাতিল করা, পেট্রোল পাম্পের ক্ষেত্রে পরিবেশ, বিইআরসি, কলকারখানা পরিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স গ্রহণ প্রথা বাতিল, বিপনন কোম্পানি থেকে ডিলারশীপ ছাড়া সরাসরি তেল বিক্রয় বন্ধ, ট্যাংকলরী চালকদের লাইসেন্স নবায়ন এবং নতুন লাইসেন্স বাধা বিপত্তি ছাড়া ইস্যু, সকল ট্যাংকলরীর জন্য আন্তঃজেলা রুট পারমিট ইস্যু করা, বিভিন্ন স্থানে অননুমোদিত এবং অবৈধভাবে ঘরের মধ্যে, খোলা স্থানে যত্রতত্র মেশিন দিয়ে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধের দাবি।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ