আসন্ন ঈদে সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে থ্রি-হুইলারের পাশাপাশি মোটরসাইকেল চলাচলে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
আজ বৃহষ্পতিবার সকালে রাজধানী বনানীতে বিআরটিএ ভবন অনুষ্ঠিত ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রী সাধারণের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে অংশীজনদের সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, দুর্ঘটনা নিয়ে আমাদের দুর্ভাবনা চলছেই। এই দুর্ঘটনার শেষ নেই। এখানে থ্রি হুইলার ও মোটরসাইকেলের বেপরোয়া ড্রাইভিং সবকিছু মিলিয়ে এই এক্সিডেন্ট হচ্ছে। এজন্য নিরাপদ সড়ক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি শীতল মনোভাব নিয়ে থাকি, তবে দুর্ঘটনা হতেই থাকবে। এ ব্যাপারে পরস্পারের ওপর দোষ না চাপিয়ে, যার যার দায়িত্ব পালন করা উচিত।
সেতু মন্ত্রী বলেন, ‘ঈদযাত্রায় সড়কে সবচেয়ে বড় উপদ্রব এই তিন চাকার গাড়ি ও মোটরসাইকেল। এখানে একটি নীতিমালা করা দরকার। ২২টি সড়ক মহাসড়কে এসব চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু তা কার্যকর হচ্ছে না। এখানে হাইওয়ে পুলিশ ও বি আর টি এ’র সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এটা যদি না হয়, তবে যত সিদ্ধান্ত নেই না কেন- তা বাস্তবায়ন করা কঠিন।’
ঢাকা শহরে লক্কর-ঝক্কর গাড়ি চলাচল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে- ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই ঢাকা শহরে এসব গাড়ি তৈরীর অনেক কারখানা আছে। আমি নিজে দেখেছি। গাড়িতে রং লাগাচ্ছে। দশ দিনও থাকে না এসব রং।’
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বলেন, এই ঢাকা শহরে প্রাইভেট কার কত আধুনিক! অথচ বাসগুলোর দিকে তাকানো যায় না। মফস্বল ও চট্টগ্রামে চলাচল করা গাড়ি এর থেকে ভালো। ঢাকা শহরের এসব লক্কর-ঝক্কর গাড়ি আমাদের উন্নয়ন অর্জনকে লজ্জা দেয়।
এ সময় গাড়ির মালিকদের ঈদ উপলক্ষে লোক দেখানো নয় গাড়িগুলোকে মোটামুটি ফিটনেসে আনার আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় ঈদের যানজটের সম্ভাব্য ১৫৫টি স্থান চিহ্নিত করা হয়। কয়েকটি স্থানের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে- সেতুমন্ত্রী বলেন, ঈদের সময় দুটো জায়গায় ঠিক করেন সব ঠিক। ফেনী থেকে ঢাকায় সেতুতে আসতে যে সময় লাগে, হানিফ ফ্লাইওভার পার হতে এর চেয়ে বেশি সময় লাগে। এখানে একটা ‘কিন্তু’ আছে। টোল বাড়ানোর জন্য এখানে এই ‘কিন্তু’ সৃষ্টি করা হয় কিনা- সেটা দেখতে হবে। আর গাজীপুরের চন্দ্রা, বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়সহ কয়েকটা জায়গা ঠিক করতে হবে।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ