নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার ক্রোনি অ্যাপারেলস কারখানায় বকেয়া বেতন পরিশোধ না করেই ছাঁটাই করার ঘটনায় ক্রোনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ আসলাম সানীর (৫৮) বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় ক্রোনি অ্যাপারেলসের কর্মকর্তা মোঃ মাহাদি হাসান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
এর আগে বেশ কিছুদিন যাবৎ বকেয়া বেতনের দাবীতে আন্দোলন করে আসছিলেন ক্রোনি অ্যাপারেলসের সাধারণ শ্রমিকরা। সোমবার হঠাৎ গার্মেন্টসটির ৫৮ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেয়ার হয়। এ ঘটনার পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা কারখানার সামনে অবস্থান নেন। প্রায় তিন ঘন্টা অবস্থানের পর থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন তারা।
গার্মেন্টসটির সিনিয়র অফিসার আফাজ হোসেন জানান, গতকাল আমাদের ৫৮ জনকে ছাঁটাই করে ছবিসহ গেটে টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ আমাদের চারজনকে আলাদা আলাদা করে ডেকে নিয়ে একেকজনকে একেকভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে। অন্যদেরকে রেখে আমরা তো এভাবে ম্যানেজ হব না। আমরা জানি, আমাদেরও কিছুদিন পর আবারও লাথি মেরে বের করে দেবে। তারা চাচ্ছে, ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বেতন দিয়ে বাদ দেবে৷ কিন্তু আমরা যাবতীয় বকেয়া বেতন বুঝে পেয়েছি, এই মর্মে স্বাক্ষর রাখতে চায়। সকল শ্রমিক ফতুল্লা থানায় এসেছি অভিযোগ দায়ের করতে। তিনি বলেন, গত ৩ মাস কিভাবে আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। বাড়িওয়ালা প্রতিনিয়ত ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে, মহল্লার দোকানে হাজার হাজার টাকা বাকি জমে গেছে। এমন অবস্থায় অমানবিকের মতো মালিকপক্ষ আমাদের ছাঁটাই করেছে। সমাধান না পেলে আমরা শ্রম আদালতে যাব। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) বাপ্পী জানান, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করবো তারপর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এবিষয়ে জানতে চাইলে ক্রোনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম সানী গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা তাদের দেনা-পাওনা পরিশোধ করব। কারখানায় মানুষ বেশি হয়ে গেলে একটু অ্যাডজাস্টমেন্ট করতে হয়। এছাড়াও দীর্ঘদিন যাবৎ কারখানাটিতে বেতন ভাতা নিয়ে মালিক পক্ষের সাথে শ্রমিকদের বিবাদ চলমান আছে। বকেয়া পরিশোধের দাবীতে বেশ কয়েকবার শ্রমিকদের রাস্তায় আন্দোলন করতে দেখা গেছে।এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি কারখানাটির বকেয়া পরিশোধ না করায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় তিতাস কর্তৃপক্ষ। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলের বিপণন বিভাগের উপ মহাব্যবস্থাপক মামুনুর রশীদ সেসময় বলেন, ৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বিল বকেয়া থাকায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি কারখানাটির গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এঘটনার তিন দিন পর অবৈধভাবে গ্যাসের লাইন পুনরায় সংযোগ দিতে গেলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ১৪ জন শ্রমিক দগ্ধ হয়। তিতাস কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ জানান, বিস্ফোরণের ব্যাপারে আমাদের কিছু জানায়নি ক্রোনি কর্তৃপক্ষ। ফায়ার সার্ভিসের কাছ থেকে জানতে পেরে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে দেখতে পাই বিচ্ছিন্ন করা গ্যাসের লাইন পুনরায় সংযুক্ত করা হয়েছে। এটা কারখানা কর্তৃপক্ষই করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ চেক করলে এটা দেখা যাবে।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ