নারায়ণগঞ্জে আ.লীগ অফিসে তালা এবং মহানগর আ.লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার বিষয়টি দলীয় ফোরামে ব্যাখ্যা দিবেন বলে জানিয়েছেন না.গঞ্জ মহানগর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক কর্মী বান্ধব নেতা এড. খোকন সাহা। গতকাল আ.লীগ অফিসে তালার বিষয় ও মহানগরের সভাপতিকে অবাঞ্চিত করার বিষয়ে সাংবাদিকরা এড. খোকন সাহার কাছে প্রশ্ন করলে তিনি এ কথাগুলো বলেন।
এড. খোকন সাহা বলেন, বাংলাদেশ আ.লীগ একটি বৃহত্তর দল। সে দলে আমার মতো ৫০জন খোকন সাহা আছে নারায়ণগঞ্জে, যারা সাধারন সম্পাদক হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। আমাদের পদ সীমিত। গত কয়েকদিন আগে সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন আহবায়ন করা হয়। সেখানে প্রায় ১৫/১৬’শ জন আমাদের দলের ত্যাগী নারী নেত্রীরা মনোনয়ন চেয়েছেন। আমাদের সভানেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সবাইকে মনোনয়ন দেয়া সম্ভব না। সম্ভব হয়নি। তিনি এর মধ্যে বেছে বেছে ৪৮জনকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তার মানে এই না, যে ৪৮জন যোগ্য বাকী সবাই অযোগ্য। বাংলাদেশ আ.লীগ বিশাল দল। এখানে যোগ্যতা সম্পন্ন অনেকেই সংগত কারনে বাদ যায়। এবং বাংলাদেশ আ.লীগের সকল পর্যায়ে যারা বাদ যায় তাদের কিন্তু সেট করা হয়। মাননীয় নেত্রী সেট করেন। নেত্রীর সরাসরির নির্দেশনায় আমরা ত্যাগীদের মূল্যায়ন করে থাকি।
গতকাল আ.লীগ অফিসে যে ঘটনা ঘটেছে, সে ব্যাপারে সাংবাদিকদের বলতে গিয়ে খোকন সাহা বলেন, এটা আমি বলবো মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির সভায়। কেন হল, ভালো হলো, না মন্দ হলো, না হাইব্রীড আসলো না কি আসলো। সেটা আমি দলীয় ফোরামে শুনাবো, এ বিষয়ে দলীয় ফোরামে ব্যাখ্যা দিবো। যেহেতু বাংলাদেশ আ.লীগ সরকারী দল। দীর্ঘদিন যাবত সরকারী দলে আছেন, দেশের উন্নয়ন করে চলছেন নেত্রী। আমরা সেই উন্নয়নটা ধরে রাখার চেস্টা করি। দলের মধ্যে যদি এই ভাবে না বলে তারা ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং-এ বলতে পারতো। আমাদের কমিটি পছন্দ হয়নি, কিংবা এই কমিটিতে তারা অযোগ্য, সেটা বলতো পারতো। সেই সমস্যা সমাধানেরও রাস্তা ছিলো। আমি একটা শাখা কমিটির জেলা পর্যায়ে মহানগর কমিটির সাধারন সম্পাদক। অত্যান্ত দায়িত্ববান একটা পদে নেত্রী আমাকে রেখেছেন। এবং দায়িত্ববান কথা বলার জন্য। সেখানে আমি দলের অভ্যন্তরীন বিষয় সংবাদ পত্রের মাধ্যমে, প্রচার মাধ্যমে কিংবা ক্ষোভ প্রকাশ করা, এটা মনে হয় গঠনতন্ত্র বিরোধী, দলের জন্য মারাত্নক ক্ষতিকারক। এ বিষয়ে আমি এখন কিছু বলবো না। আমি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিবো দলীয় ফোরামে। আমাদের দলীয় ফোরাম রয়েছে। সেখানে যদি কেহ অবিচারের শিকার হয়ে থাকেন, কাউকে যদি অবিচার করা হয়, সর্বোচ্চ ফোরাম নেত্রীর কাছে নালিশ জানানোর সুযোগটা রয়েছে। কিন্তু প্রকাশ্যে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে, এমন কাজ কারোই করা উচিত নয়। আমি নিজেও করি না। তিনি বলেন, কেউ যদি রাগ-ক্ষোভে এটা করে থাকেন, আমি সেই বিষয়টা দলীয় ফোরামে আলাপ করবো।
আ.লীগ অফিসে তালা মারার বিষয়ে খোকন সাহা বলেন, কে বা কারা তালা মেরেছেন, সেটা কিভাবে খুলবেন না খুলবেন, এটা তাদের বিষয়। দল এ বিষয়টা পর্যালোচনা করছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের বিষয়টি দৃস্টিগোচর হয়েছে। কেউ না কেউ তা করেছেন। প্রকাশ্যভাবে যদি কেহ অন্যায় করে থাকে, তার বিচারের দলীয় ফোরাম আছে। সর্বোচ্চ পর্যায়ে আমাদের নেত্রী আমাদের মাতৃতুল্য জননেত্রী শেখ হাসিনা। উনার কাছে যাবার ক্ষমতা নারায়ণগঞ্জের সবারই আছে। উনার দরজা সবার জন্য খোলা। সেখানে যেতে পারতেন। দলীয় কথা দলীয় ফোরামে হওয়া উচিত। কিন্তু তা না করে আ.লীগের অফিসে তালা, বিষয়টি আমি পত্র-পত্রিকায় দেখেছি। এই বিষয়ে কেন হলো, তা নিয়ে দলীয় ফোরামেই কথা বলবো। এ ব্যাপারে বেশী কিছু বলতে চাননি খোকন সাহা। তিনি জানান, এই বিষয়টি দলীয় শৃংঙ্খলার সাথে জড়িত। তিনি আবারো বলেন, ভুল আনোয়ার ভাই করতে পারে. আমিও করতে পারি। ভুল সংশোধনের জায়গা আছে। ফোরাম আছে। ফোরামেই সেটা বলা উচিত প্রত্যাকটা লোকের। সেটা না করে যদি কেউ ভিন্নখাতে করে সেটার দায়দায়িত্ব তাদের। দলের সাংগঠনিক রীতিনীতি, দলীয় গঠনতন্ত্র মতে কে কি বললো সেটা আমার যায় আসে না। শামীম ভাই কি বললো কিংবা আইভী কি বললো সেটা আমার যায় আসে না। শামীম ভাই বলেননি, আইভী বলেছেন, মেয়র বলেছেন। সে বলতেই পারেন। তার কথা থাকলে সে পত্রিকায় কেন বললেন, ৯টি ওয়ার্ডে হস্তক্ষেভ করবেন। উনার বলা উচিত ছিলো পার্টি ফোরামে, দলীয় ফোরামে। যেটা সমস্যার সমাধান সম্ভব। সিদ্ধিরগঞ্জের ১০টি ওয়ার্ড নির্বাচনের পূর্বেই করে ফেলার কথা বলতে গিয়ে খোকন সাহা বলেন, নির্বাচনের পূর্বেই সিদ্ধিরগঞ্জের ১০টি ওয়ার্ড আমরা করে ফেলতাম। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আমাকে পরিস্কারভাবে বলেছেন, নির্বাচন আসন্ন, এটা একটা সংসদীয় এলাকা। এখানে যতোই কঠিন লড়াই হোকনা কেন, এখানে আমাদের নেতা শামীম ওসমান কনফার্ম জয়ী হবেন। তার নির্বাচনের কাজে যেনো কোন প্রকার ব্যাঘাত সৃস্টি না করা হয়। এটার নির্দেশনা আমাকেও করা হয়েছিলো, আনোয়ার সাহেবকেও করা হয়েছিলো। সেই হিসেবে আমরা কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করেছি, আমরা নির্বাচনের পরে কমিটি করবো। আমরা ১৮/০৬/২৩ইং ১৭টি ওয়ার্ড কমিটির অনুমোদন দিয়েছি। অর্থাৎ প্রায় ৮মাস পূর্বে। কিন্তু কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক জননেতা মির্জা আজম ভাই বললেন, এখন এই মুহুর্তে কমিটি ঘোষনা দিবেননা। নির্বাচন আসন্ন। কমিটি দিবেন পরে। পরবর্তীতে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক কেন্দ্রিয় নেতা যখন বললেন কমিটি দিয়ে দেয়ার জন্য আমরা তার নির্দেশে ১৭টি কমিটি দিয়েছি। এই কমিটি আমরা দিয়েছি। কারো যদি আপত্তি থাকে, তা পার্টি ফোরামে বলতে পারেন। কারন পার্টি ফোরাম হচ্ছে সর্বোচ্চ যায়গা। এবং আমাদের দলের সবোচ্চ বিচারের শেষ আশ্রয়স্থল হচ্ছে আমাদের দলের মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনা। ভুল আমরা করতে পারি। নেত্রী কখনো ভুল করেননা। তিনি আমাদের ভুলগুলো সংশোধন করে দেন। যদি কোন ভুল হয়, উনি বলতে পারতেন,এভাবেনা এভাবে তোমরা করো। আমরা সেভাবেই করবো। কেননা দল করলে দলের নির্দেশনা মানতে হবে। সিদ্ধিরগঞ্জের ৯টি ওয়ার্ডে মেয়র হস্তক্ষেপ করবে বলে সাংবাদিকদের প্রশ্নে খোকন সাহা বলেন, মেয়র কেন, নেত্রী ব্যতীত কমিটির বিষয়ে অন্য কারো হস্তক্ষেপ আমরা পছন্দ করি না। উনার হস্তক্ষেপটা যদি দলের সাংগঠনিক বিধিবিধান মোতাবেক হয়, উনি উপদেশ দিতে পারেন, আমাদের নেতা শামীম ওসমান সাহেব বলতে পারেন, যে এটা এভাবে নয়, এভাবে করেন। যেমন কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ আমাদের বলেছেন, এটা শামীম ভাইয়ের নির্বাচনী এলাকা, আপনারা যখন এই ১০ ওয়ার্ড কমিটি করবেন, তার সাথে পরামর্শ নিয়ে করবেন। আমরা উনার পরামর্শ নিবো, উনার পরামর্শ নিয়ে দলটা কিভাবে গতিশীল করা যায় সে কাজটুকু আমরা করবো। আমরা যদি মনে করি মেয়রের পরামর্শ নেয়া দরকার, আমি তার পরামর্শও গ্রহন করবো।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ