নাসিক মেয়র ও দুই এমপি ভ্রাতৃদ্বয়ের সিদ্বান্তক্রমে নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে ও হকারদের পুনর্বাসনের দাবিতে হকারদের পরিবার নিয়ে নগর ভবন ঘেরাও করে স্মারকলিপি প্রদান করেছে হকাররা।
১৫ই ফেব্রুয়ারি দুপুর ১ টায় নগর ভবন ঘেরাও করে স্মারকলিপি প্রদান করে হকাররা।
এসময় স্মারলিপিতে হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের দুর্বিষহ জীবন যাপনের কথা সহ বিভিন্ন দাবি উল্লেখ করা হয় এবং পূর্নবাসনের দাবীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী বরাবর একটি স্মারক লিপি দেন হকারদের থেকে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। রাষ্ট্রীয় কাজে নারায়ণগঞ্জে না থাকায় মেয়রের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি গ্রহন করেন কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, মনিরুজ্জামান মনির, অসিত বরণ বিশ্বাস, নারী কাউন্সিলর আফরোজা হাসান বিভা, শাওন অংকন।
এর আগে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বেলা ১১ টা থেকে চাষাড়ায় অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নেন হকাররা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে।এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে হকাররা নিজেদের দুঃখ দুর্দশার কথা তুলে ধরেন।হকাররা বলেন, দীর্ঘ দিন যাবৎ আমরা বঙ্গবন্ধু সড়কসহ অন্যান্য সড়কে জীবিকার তাগিদে সামান্য পরিসরে পসরা সাজিয়ে পরিবারের মুখে অন্ন দিতে বসি তাও নিত্যদিন পুলিশের লাঠির সাথে যুদ্ধ করে।কখনো কখনো তাদের লাঠির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হতে হয় আবার কখনো আমাদের জিনিস পত্র নষ্টও হয় তবু এই জীবনযুদ্ধ চালিয়ে চলছে।তারমধ্যে এই দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির বাজারে আমাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় সেখানে আমাদের মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে আমাদের ফুটপাতে বসতে দেওয়া হচ্ছে।
তারা আরো বলেন, গত ৩ তারিখ মেয়র ও দুই এমপি মহোদয় বসে আমাদের ফুটপাতে না বসার সিদ্বান্ত নেন এবং আমাদের উচ্ছেদ করেন।আপনেরা শহরের মানুষের কথা চিন্তা করেন আমরাও তো এই শহরে বাস করি আমাদের আয়ের রোজিরুটি ওই ছোট ফুটপাতের দোকান তাও আপনেরা উচ্ছেদ করে দিয়েছেন। আমাদের পরিবারে এখন কোন বাজার নেই।না খেয়ে থাকতে হচ্ছে।আমাদের সন্তানদের পড়ালেখার খরচ মেটাতে পারছি না। এখন পর্যন্ত বাসা ভাড়া দিতে পারছি না।আপনেরা বলতাছেন যারা সিটি কর্পোরেশনের ভোটার তাদের দোকানের ব্যবস্থা করবেন। আমরা যারা ভোটার না তারা কি মানুষ না? আমাদের দোকানের পাশাপাশি পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।
বক্তব্য শেষে চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে দুপুর ১২টায় পথসভা ও বিক্ষোভ মিছিল করে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিতাইগঞ্জে নগর ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় শহর থেকে নিতাইগঞ্জ এলাকার প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেন হকাররা। প্রায় দেড় ঘণ্টার মতো সময় অবরোধ করে রাখা হয় সড়কটি।
উল্লেখ্য, গত ৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ শহরের হকার সমস্যা ও যানজট নিরসন ও বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে নারায়নগঞ্জ প্রেসক্লাবের আয়োজনে একটি গোলটেবিল মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আরিফ আলম দীপুর সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চন্দন শীল, জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হক, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আমির খসরু সহ নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের অন্যান্য সাংবাদিক, সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বৃন্দ, বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ওই বৈঠকে শহরের যানজট নিরসনের জন্য দ্রুত বেশ কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহন ও বাস্তবায়নের কথা বলা হয়। এর মধ্যে শহরের ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের বিষয়টি ছিলো অন্যতম। এ সময় উপস্থিত সকলে শহরের বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সমাধানে পরষ্পরকে সহেযোগিতার আশ্বাস দেন।তারপরই নারায়ণগঞ্জ পুলিশের সহযোগিতায় নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাতের হকার উচ্ছেদ করা হয় এবং হকাররা গত দুই সপ্তাহ ধরে রাজপথে বসার ও পুনর্বাসনের দাবীতে আন্দোলন করে যাচ্ছে।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ