সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এস এস সি) পরীক্ষা-২০২৪। পরীক্ষা কেন্দ্রে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও স্কুল ম্যানিজিং কমিটি সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের প্রবেশাধিকার থাকলেও তথ্য সংগ্রহে দেওয়া হয় বাঁধা সংবাদকর্মীকে,পুলিশ করে অশোভন আচারণ।
১৫ই ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলাধীন পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘটে এ ঘটনা।
সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ব্রজেন্দ্র নাথের অনুমতিক্রমে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করেন সংবাদকর্মী। এসময় ব্রজেন্দ্র নাথ বলেন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ৭টি বিদ্যালয়ের মোট ১৪৪৭ জন নিয়মিত ও অনিয়মিত শিক্ষার্থী পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে।
পরে ব্রজেন্দ্র নাথ জানান, আমাদের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক অফিস থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।আপনে কোন হলরুমের ছবি না তুলে, শুধু ঘুরে পরীক্ষার ঘন্টা পরার আগেই চলে যাবেন।
কেন্দ্র সচিবের নির্দেশক্রমে কোন হলরুমে প্রবেশ না করে কেন্দ্র দেখার সময় ফতুল্লা থানার কন্সটেবল কামরুল হাসান সংবাদকর্মীকে উচ্চ শব্দে ডেকে এনে উচ্চবাচ্য শব্দে অশোভন আচারণ করতে থাকে কেন্দ্র সচিবের সামনে।তাকে অবগত করা হয় হয় কেন্দ্র সচিবের অনুমতিক্রমেই প্রবেশ করা হয়েছে তারপরও উচ্চবাচ্য শব্দ ব্যবহার করে অশোভন আচারণ করতে থাকে সংবাদকর্মীর সাথে। কি সাংবাদিক, কেমন সাংবাদিক, কার্ড দেখান সহ বেয়াদব শব্দ ব্যবহার করে এবং বেশি কথা বললে এর ফল ভালো হবে না বলে উচ্চবাচ্যে বিভিন্ন কথা বলতে থাকে। এনিয়ে পুলিশের কন্সটেবলের সাথে সংবাদকর্মীর মাঝে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয় এবং সংবাদকর্মীর সাথে অশালীন ভাষা ব্যবহার করে পুলিশ কর্মকর্তা।
পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকের দুঃখ প্রকাশ ও অনুরোধক্রমে পরীক্ষা কেন্দ্রের বাকি তথ্য সংগ্রহ না করেই পরীক্ষা কেন্দ্র ত্যাগ করেন সংবাদকর্মী।
এর আগে সকাল পৌনে ৯টা থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে থাকে শিক্ষার্থীরা।পরীক্ষার প্রথম দিনেই প্রবেধ গেইটে সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খলা। একই সাথে রাস্তায় সৃষ্টি হতে থাকে তীব্র যানজট। প্রথমে প্রবেশ গেইটে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না থাকায় বিশৃঙ্খলা উঠে চরমে শিক্ষার্থীদের প্রবেশে।প্রথম এক গেইট চালু হলেও দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ব্রজেন্দ্র নাথের পদক্ষেপে দ্বিতীয় গেইট খুলে দেওয়া হয় এবং স্কাউট সহ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় গেইটে। পাশাপাশি কাজ করে পুলিশ।এতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে এবং শিক্ষার্থীরা সহজে প্রবেশ করতে থাকে।
এসময় শিক্ষার্থী ব্যতিত বিদ্যালয়ে ফতুল্লা থানা, কুতুবপুর ইউনিয়ন, ফতুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সদস্যরা প্রবেশ করেন এবং বিভিন্ন ভবন ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকেন।কিন্তু সংবাদকর্মী প্রবেশে দেওয়া হয় বাঁধা।এতে কেন্দ্র সচিবের অনুমতিক্রমে প্রবেশ করে সংবাদকর্মী। ইতিপূর্বে একই কেন্দ্র নিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অনিয়ম ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত শিক্ষার্থীদের কাছ চাঁদা উত্তেলন সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
পরীক্ষা কেন্দ্রে তথ্য সংগ্রহে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সংবাদকর্মীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কোন নোটিশ দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি না বলে জানান।এবং তিনি বলেন, আপনেরা ৮/১০ সাংবাদিক এক সাথে হল রুমে ডুকে যান এতে পরীক্ষার্থীদের সমস্যা হয়।
পরে ডিসি পাশের কাউকে এমন কোন নোটিশ দেওয়া হয়েছে কিনা জিজ্ঞাসা করে আর কোন উত্তর না দিয়ে কলটি কেটে দেন।
এবার নারায়ণগঞ্জ জেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৫টি উপজেলায় ২শ ৬৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ৩২ হাজার ৯শ’ ৪৬জন পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বালক ১৬০৫৪ ও বালিকা ১৬৮৯২ জন পরীক্ষায় অংশ নিবে। সারাদেশে এসএসসি, দাখিল, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ২৯ হাজার ৭৩৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২০ লাখ ২৪ হাজার ১৯২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। মোট ৩ হাজার ৭০০ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে এই পরীক্ষা।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ