অগ্রহায়ণের শুরু থেকে বর্তমানে পৌষের শেষে হীম-শীতল পরিবেশ আর সকালের ঘন কুয়াশার পাশাপাশি সারা দেশেই বয়ে চলেছে তীব্র থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্য প্রবাহ। সারা দিন দুপুরের দিকে সামান্য রোধের দেখা মিললেও বিকেল থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় চারপাশ।ভোরের দিকে চাদর বিছিয়ে দিচ্ছে অতি ঘন কুয়াশা। তীব্র এই শীতকে মোকাবেলায় নারায়ণগঞ্জ নগরীর বিভিন্ন মার্কেট, বিপনী বিতান ও ফুটপাত গুলোতে এরই মধ্যে শীতের কাপড় কিনতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে।
শনিবার (১৪ জানুয়ারী)বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের নং রেল গেইট গোল চক্কর এলাকার ফুটপাতে শীতের কাপড় কিনতে উপচেপড়া ভীড় দেখতে পাওয়া যায়।
গত কয়েক দিন ধরেই শীতের পোশাক কিনতে শহরের বিভিন্ন বিপণিবিতান, শপিংমল, পাইকারি এবং খুচরা মার্কেট থেকে শুরু করে ফুটপাথে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ জন। আর্থিকভাবে সচ্ছল ক্রেতারা যেমন ভিড় করছেন দোকানে, তেমনি স্বল্প আয়ের মানুষেরাও অল্প দামে শীতবস্ত্র কিনতে ফুটপাথে ভিড় করছেন। ফুটপাতের বিক্রেতারা জানান, শহরজুড়ে ধীরে ধীরে শীতের আবহ বৃদ্ধি পাওয়ায় গরম কাপড়ের বাজারে বেশ জমজমাট। ইতিমধ্যেই জমে উঠেছে ফুটপাথের শীতের কাপড়ের বাজার গুলো। সরেজমিনে শহরের চাষাড়া, কালীবাজার, দুই নং রেলগেটসহ ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় বিকেল থেকেই জমজমাট কেনাবেচা চলছে ফুটপাথের দোকানগুলোতে।
ক্রেতাদের পছন্দের ওপর ভিত্তি করে বিক্রেতারা সাজিয়েছেন পসরা। উলের তৈরি সোয়েটার, চাদর, জ্যাকেট, ব্লেজার, মাফলার, কানটুপি কিংবা হাতমোজা সবই মিলছে এখানে। বিক্রিও চলছে দেদারসে। দোকানিরা জানালেন, ডিসেম্বরের প্রথম থেকেই শুরু হয়েছে শীতবস্ত্রের কেনাবেচা। আর এক সপ্তাহ ধরে জমে উঠেছে খুচরা বিক্রির বাজার। প্রতিদিনই বাড়ছে ক্রেতার সংখ্যা। তবে দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় নিম্নবিত্ত মানুষদের পক্ষে শীতের পোশাক কেনা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের মার্কেট, বিপনী বিতান ও ফুটপাত হকাররা জানান, শীত আসার আগে এই দোকানে শার্ট-প্যান্ট ও টি-শার্ট বিক্রি হতো। কিন্তু শীতের সময় আমরা গরম কাপড় বিক্রি শুরু করি। গত কয়েক দিন ধরে শীতের পোশাক ভালো বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নানা ধরনের শীতের পোশাক এনেছি। ক্রেতারাও ভিড় করছেন পছন্দের পোশাক কিনতে। বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। দামের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, শীতের সময়ই কেবল গরম কাপড় বিক্রি হয়। তাই ব্যবসায়ীরা একটু লাভে বিক্রি করছেন। তবে দাম সর্বসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই আছে।
অপরদিকে বিপণিবিতান গুলোর পাশাপাশি শহরের রাস্তার পাশের ফুটপাথ ও ভ্যানগাড়িতে বিক্রি হচ্ছে শীতের পোশাক। সর্বনিন্ম ৫০ টাকা থেকে শুরু করে হাজার টাকায় এখানে মিলছে শীতবস্ত্র। এসব দোকানে নি¤œ আয়ের মানুষই বেশি দেখা গেছে। এখানে সোয়েটার, চাদর, কম্বল, মোটা বিছানার চাদর থেকে শুরু করে সব ধরনের শীতবস্ত্র মিলছে। কেনাকাটা করতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ দেখা গেছে।মার্কেটগুলোতে মানভেদে জ্যাকেট পাওয়া যাচ্ছে ৫০০ থেকে ১২০০ টাকায়। এসব মার্কেটে দেশীয় তৈরি চাদর ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা, উলের সোয়েটার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা, কার্ডিগান ২০০ থেকে ৩০০ টাকা এবং কানটুপি দাম ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে শীতের গরম কাপড় কিনতে আসা রোকসা বেগম জানান, হঠাৎ করে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাযওয়ায় পরিবারের জন্য গরম কাপড় কিনছি। আমরা সাধারন মানুষ তাই ২নং রেল গেইট এলাকার এই ফুটপাত থেকে ছেলে-মেয়ের জন্য গরম কাপড় কিনছি। তবে এবারের শীতে গত বছরের তুলনায় দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ