প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, বিচার বিভাগের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আইনজীবীদের অংশগ্রহণ ব্যতীত দেশে ন্যায় বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে তালিকাভুক্ত নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধান বিচারপতি। অনুষ্টানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিমকোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক, এডভোকেট মোঃ আবদুন নূর দুলাল; সুপ্রিমকোর্ট রেজিস্ট্রির কর্মকর্তাবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক নবীন আইনজীবী।
নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, সংবিধানে বর্ণিত যে কোনো মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হন। তাই দেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধারের অন্যতম অনুঘটক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সদস্যরা। কেননা যে ব্যক্তির অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে তিনি সবার আগে আপনার কাছেই আসেন তার সমস্যার কথা খুলে বলতে। মনে রাখবেন, বার ও বেঞ্চ-উভয়ের সমন্বয়েই বিচার বিভাগ। তাই বিচার বিভাগের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আপনাদের অংশগ্রহণ ব্যতীত দেশে ন্যায় বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
বিচার বিভাগের ইতিহাস উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রত্যয়, আপসহীন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার সংগ্রামের জন্য যুগে যুগে আইনজীবীরা আমাদের সমাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। অতীতে আমাদের মহান সংবিধানের বিধানকে ভূলুণ্ঠিত করে দেশে যখনই স্বৈরতন্ত্র কায়েম হয়েছে কিংবা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে-তখন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবীরা রাজপথে নেমে এসেছেন। সুপ্রিমকোর্টের নেতাদের স্বৈরতন্ত্রের সঙ্গে কোনোরূপ আপস না করে হাসিমুখে কারাবরণ গ্রহণ করেছেন-এমন দৃষ্টান্ত অনেক রয়েছে।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ