নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অভিযানের নামে বিএনপি নেতার বাড়িতে ঢুকে রুমের তালা ভেঙে আসবাবপত্র ভাংচুর ও নারীদের সাথে অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আকবর হোসেনের বাড়িতে বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
এই বিএনপির নেতার অভিযোগ, পুলিশ তার বাড়িতে ঢুকে মেইন গেইট লাগিয়ে দিয়ে তার ভাতিজি ও ভাতিজার রুমের তালা ভেঙে তল্লাশির নামে বাড়ির ভেতরে তছনছ করে।
বিএনপি নেতা আকবর হোসেন বলেন, আমি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছি। বিরোধী দলের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় কিছুদিন পর পরই পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আমার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে হয়রানী করা সহ ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে। আজ বিকেলে আমি বাড়ির বাইরে থাকা অবস্থায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাব ইন্সপেক্টর কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা আমার বাড়িতে ঢুকে মেইন গেইট বন্ধ করে দিয়ে বিভিন্ন রুমের তালা ভেঙ্গে করে ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে। এসময় আমার স্ত্রী ও ভাতিজা-ভাতিজি বাধা দিলে তাদের চুল কেটে ফেলার হুমকি দেয়। হৈ-চৈ শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে অভিযানের নামে হয়রানীর বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের আরও টিম এনে স্থানীয়দেরকে লাঠিপেটা করে পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, এর আগে গত ৩০ জানুয়ারী কেন্দ্র ঘোষিত বিএনপির কালো পতাকা মিছিলের পূর্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি টিম আমার বাড়িতে আসে। আমাকে খোঁজাখুজি করে না পেয়ে আমার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যেতে চায়। এসময় ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিলে তার স্ত্রীকে বাসায় রেখে যায় বলে জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানায়, বিরোধী মতের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় কিছুদিন পরপরই পুলিশ এই বাড়িতে অভিযান চালায়। বৃহস্পতিবারও একইভাবে এই বাড়ির ভিতরে ঢুকে মেইন গেইট বন্ধ করে দেয়। পরে ভিতরে কি হয়েছে বলতে পারবো না, তবে বাড়ির ভিতর থেকে নারীদের কান্নাকাটি ও আসবাবপত্র ভাংচুরের শব্দ পাওয়া গেছে বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাব ইন্সপেক্টর কামরুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে তথ্য ছিলো এই বাড়িতে মাদক বিক্রি করা হয়। তথ্যের ভিত্তিতে আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। কোনো কিছু পাওয়া না যাওয়ায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। আলী আকবর বিএনপি করেন কিনা তা জানা নাই বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, তবে ঐ বাড়িতে প্রবেশের পর থেকেই নারীরা চিৎকার চেচামেচি শুরু করে, এক পর্যায়ে বাইরে থেকে কয়েকজন লোক এসে আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করলে পুলিশের আরও ২টি টিম খবর দেই। এ লোকজনদের মধ্যে ঐ বাড়ির মালিক আলী আকবরও ছিলেন বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ আসলে ঐ ব্যক্তি পালিয়ে যায় এবং কোনো মাদক না পাওয়ায় আমরা ওখান থেকে চলে আসি।
আসবাবপত্র ভাংচুরের কথা অস্বীকার করে এই পুলিশ সদস্য বলেন, এটা চরম মিথ্যা কথা। এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি ওখানে।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ নাই। তারা (পুলিশ) অভিযানে গিয়েছিলো, তাদের সাথে অনেক মানুষ ডিস্টার্ব করছে। এটুকুই জানি, এর বেশী অতিরিক্ত কোনো কিছুই নাই।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ