স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট : পাঠক, লেখক, প্রকাশকদের আনাগোনায় মাতৃভাষা দিবসের ছুটির দিনে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে বাঙালির প্রাণের অমর একুশে বইমেলা। প্রিয় লেখকের বই কিনতে দূরদূরান্ত থেকে মেলা প্রাঙ্গণে ছুটে আসছেন বইপ্রেমীরা। বিভিন্ন স্টলে বিক্রয়কর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। এর মধ্যে গত কয়েকদিনে মেলায় অন্যান্য কয়েকটি গ্রন্থের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে অভিনেত্রী শম্পা হাসনাইনের লেখা এবারের নতুন উপন্যাস ‘আমি আছি’। এছাড়াও তার লেখা ” দ্বিচারক’, এবং “না- পুরুষ’, নামের দুটি উপন্যাসের বিক্রি বেড়েছে।
বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অবসর ও প্রতীক প্রকাশনা সংস্থার প্যাভিলিয়ন- ৩ থেকে বই দুটি পাওয়া যাচ্ছে। অমর একুশে বইমেলায় শম্পা হাসনাইন এর ‘আমি আছি, উপন্যাসটি সংগ্রহ করেছেন নারায়ণগঞ্জ থেকে বই মেলায় ঘুরতে আসা মন্ডল মোঃ মহিউদ্দিন সানী ও তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা। তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, শম্পা হাসনাইন খুব ভালো একজন অভিনেত্রী। অভিনয়ের জগতে শম্পা হাসনাইন যেভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন লেখালেখিতে সেভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করুক এটাই প্রত্যাশা। তার এ লেখালেখি সে অব্যাহত রাখুক এবং ভবিষ্যতে আরো অনেক দূর এগিয়ে যাক। গতবছর ২০২৩ সালে তাঁর লেখা “দ্বিচারক’, এবং “না- পুরুষ’, বই দুটি কিনেছিলাম। বই দুটি পড়ার পর বেশ ভালো লেগেছিল। এবার তার আরো একটি উপন্যাস বের হয়েছে জানতে পেরে বই মেলায় আসা এবং আমার পরম ভাগ্য তার সাথে দেখাও হয়ে গেল।
মেলায় আগত সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলের মেঘনা ডিপো শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ. আর মহসীন জানান, তিন বছর ধরে নিয়মিত মেলায় আসছেন। বই কেনার চেয়ে মেলায় ঘুরতে বেশি পছন্দ করেন তিনি। শম্পা হাসনাইনের লেখা সকল বই মেলা থেকে ক্রয় করেছেন বলে জানান এ. আর মহসীন।
অভিনেত্রী ও লেখক শম্পা হাসনাইন বলেন, ২০২০ সালে গ্রন্থমেলায় প্রথমবার ‘অ-লক্ষ্মী’ এবং ‘চা খাবে মীরু’ নামে দুটি উপন্যাস প্রকাশ পায়।তখন প্রথম একসঙ্গে দুটি উপন্যাস প্রকাশ হয় আমার। তখনও পাঠকদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি এবারও ইনশাআল্লাহ পাচ্ছি। বইমেলায় পাঠক উপস্থিতি ও তাদের প্রতিক্রিয়ায় আমি সন্তুষ্ট। বিক্রিও ভালোই হচ্ছে বলে জানতে পেরেছি আমার বিশ্বাস, পাঠকরা এবারের নতুন উপন্যাস আমি আছি খুব পছন্দ করবেন।
উল্লেখ্য, শম্পা হাসনাইনের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের শহর, শিক্ষানগরী ময়মনসিংহে। কৈশোর কেটেছে ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজের কঠিন নিয়ম-কানুনের মধ্য দিয়ে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর তিনি ঢাকা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১০ সালে ‘মাটির পিঞ্জিরা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে শম্পার অভিনয় জীবনের শুরু। অভিনয় জীবনে বাংলাদেশ-ভারত মিলে আটটি চলচ্চিত্র তাঁর এ পর্যন্ত মুক্তি পেয়েছে। ২০১২ সাল থেকে টানা নাটকেও তিনি নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাটক, ২৫০ পর্বের ধারাবাহিক ‘বড় বাড়ির ছোট বউ’, যার নাম ভূমিকায় অভিনয় করে শম্পা দর্শক পরিচিতি পান। শম্পা হাসনাইনের লেখালেখির হাতেখড়ি তাঁর মায়ের কাছে। ক্যাডেট কলেজ জীবনে দেয়াল পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন। কলেজ জীবনে লেখালেখির জন্য বরাবরই পুরস্কৃত হতেন তিনি। অভিনয় জীবনের ব্যস্ততায় অনেকদিন লেখায় সময় দিতে পারেননি শম্পা। লেখিকা শম্পা হাসনাইনের উপন্যাস ‘চা খাবে মীরু!’ এবং ‘অ-লক্ষ্মী’ একুশের বইমেলা ২০২০ এ প্রথম প্রকাশিত হয়েছে। ‘দ্বিচারক’ শম্পা হাসনাইনের লেখা তৃতীয় উপন্যাস। ‘না- পুরুষ ‘ তার লেখা চতুর্থ উপন্যাস। ‘আমি- আছি’ তার লেখা পঞ্চম উপন্যাসটি এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ