নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান ও জরিমানা করার ঘটনায় তিনি যতটা অসম্মানিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তার চেয়ে বেশি দেশের বিচারব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিতর্কিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।
আজ শুক্রবার ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগের মামলার রায় বাতিলের দাবি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের বিবৃতিতে এ মন্তব্য করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিকভাবে একজন সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। তিনি বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী।
শুধু নোবেল পুরস্কার বিজয় নয়, দারিদ্র্য বিমোচনসহ অর্থনীতির নানা ক্ষেত্রে তাঁর মৌলিক ও সৃজনশীল তত্ত্ব ও কর্মকৌশল বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে। তাঁর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে বিশেষ সম্মান লাভ করেছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় যে তিনি বারবার বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার ও সরকারি দলের প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তাঁকে অসম্মান ও অপদস্থ করে বিভিন্ন সময় বক্তব্য দিচ্ছেন।
বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর গড়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাসহ তুচ্ছ অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলাটিও এমনি একটি মামলা, যার মাধ্যমে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। আমরা মনে করি, মামলার এ রায়ে ড. ইউনূস ন্যায়বিচার পাননি। তড়িঘড়ি করে দ্রুততম সময়ে ড. ইউনূসকে একটি সাজানো মামলায় রায় প্রদানের মাধ্যমে ন্যায়বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।
ড. ইউনূস ও তাঁর সহকর্মীদের দোষী সাব্যস্ত করা ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবরুদ্ধ দশার প্রতীক’ বলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যে বিবৃতি দিয়েছে, আমরা তাকে যথার্থ বলে মনে করি।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ড. ইউনূসকে সাজা দেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক দুরভিসন্ধিও রয়েছে বলে আমাদের ধারণা। একতরফাভাবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় থাকার যে বন্দোবস্ত করেছে, এর প্রতিবাদে চলমান সরকারবিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার কৌশল হিসেবে এ রায়টি দেওয়া হয়েছে বলে আমাদের বিশ্বাস। আমরা এ-ও মনে করি যে এই রায়ের ফলে ড. ইউনূস যতটা না অসম্মানিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তার চেয়ে দেশের বিচারব্যবস্থা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও বিতর্কিত হয়েছে। তাই আমরা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে প্রদত্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের সাজা বাতিলের জোর দাবি জানাচ্ছি।