মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য (৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড) রাহিমা বেগমের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, গর্ভকালীন ভাতা, ন্যায্যমূল্যের কার্ড এবং সরকারি নলকূপের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে অনেকের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন ওই ইউপি সদস্য। অভিযোগকারীদের দাবি, অর্থ নেওয়ার পরও প্রতিশ্রুত সুবিধা তারা পাননি এবং অনেকেই তাদের অর্থও ফেরত পাননি।
ভুক্তভোগী ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রাবেয়া (৬৫) বলেন, বিধবা ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে তিন হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। তিন বছর পার হলেও ভাতা পাইনি, টাকাও ফেরত পাইনি।
একই ওয়ার্ডের রহিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বয়স্ক ভাতার জন্য খরচ বাবদ দুই হাজার টাকা দিয়েছি। কিন্তু আজ-কাল বলে ঘুরানো হচ্ছে, কোনো ব্যবস্থা হয়নি।
৬ নম্বর ওয়ার্ডের দোলা আক্তার বলেন, গর্ভকালীন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু কার্ডও পাইনি, টাকাও ফেরত পাইনি।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ২০২২ সালে নিজের স্বামীকে প্রতিবন্ধী দেখিয়ে সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা চালুর অভিযোগও উঠেছিল রাহিমার বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে সে সময় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভাতাটি বাতিল করে বলে তারা দাবি করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য রাহিমা বেগম সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি মহল পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করছে। আমি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে গাঁওদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, রাহিমা মেম্বারের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আমার জানা নেই। পরিষদের সচিবের সথে ও রাহিমার সাথে কথা বলে ও খোঁজ নিয়ে দেখতেছি।#