শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
গোদনাইল এসও বাসষ্ট্যান্ডস্থ আল-আকসা মিনার জামে মসজিদে এমপি মান্নানের সুস্থ্যতা কামনায় যুবদল নেতা মিন্টুর উদ্যোগে দোয়া অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবসে নাসিক ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি’র পক্ষ থেকে মাসুম প্রধানের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবসে নাসিক ৬নং ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমীন মিন্টুর শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবসে নাসিক ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি’র পক্ষ থেকে সাংগঠনিক সম্পাদক মোর্শারফ হোসেনের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবসে নাসিক ৬নং ওয়ার্ড বিএনপি’র পক্ষ থেকে সালাউদ্দিন মিয়ার শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবসে মহানগর শ্রমিকদলের পক্ষ থেকে এস এম আসলামের শুভেচ্ছা বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নাসিক ৬নং ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমীন মিন্টুর শুভেচ্ছা বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নাসিক ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাংগঠনিক মোর্শারফ হোসেনের শুভেচ্ছা বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে না.গঞ্জ মহানগর শ্রমিকদলের পক্ষ থেকে আহবায়ক এস এম আসলামের শুভেচ্ছা শ্রীনগরে পুলিশের লুট হওয়া ৫০ শটগানের কার্তুজ উদ্ধার

লৌহজংয়ে কৃষি জমিতে পকেট কাটা ও ড্রেজার বাণিজ্যর ব্যাপক প্রস্তুতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১০৭ বার পঠিত
আপডেট : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ন

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলাজুড়ে অবৈধভাবে পকেট কেটে কৃষি জমির শ্রেণী পরিবর্তন, মাটি বিক্রি এবং ড্রেজার বাণিজ্যর ব্যাপক প্রস্তুতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিস্তীর্ণ তিন ফসলি কৃষিজমি, খাল-বিল, পুকুর ও জলাশয় বালু ভরাটের মাধ্যমে শ্রেণী পরিবর্তনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে কমে যাচ্ছে আবাদযোগ্য জমি, হুমকির মুখে পড়ছে কৃষি উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশের ভারসাম্য।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে, উপজেলার মেডিনীমণ্ডল, কুমারভোগ, কনকসার, খিদিরপাড়া, বেজগাঁও, গাঁওদিয়া, কলমাসহ ১০টি ইউনিয়নে একাধিক সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্ষা মৌসুমকে কাজে লাগিয়ে এসব চক্র কৃষি জমির মাঝখান থেকে  ভরাট করার উদ্দেশ্যে পকেট কেটে জমির শ্রেণী পরিবর্তনের করছে। প্রথমে জমির মালিকদের প্রলোভন দেখিয়ে বা বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে ফসলি জমির মাঝখান থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়। এতে পাশের জমিগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়ে। একপর্যায়ে ক্ষতির আশঙ্কায় আশপাশের জমির মালিকরাও কম দামে মাটি বিক্রি করতে বা ড্রেজারের মাধ্যমে জমি ভরাটে বাধ্য হন। এভাবেই ধাপে ধাপে শত শত একর তিন ফসলি কৃষিজমি আবাদ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে উপজেলার বিভিন্ন খাল ও জলাশয় এবং বাল্কহেড থেকে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ও মাটি উত্তোলনেরও প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটগুলো। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কার্যক্রমের পেছনে প্রভাবশালী একটি মহলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা রয়েছে। তবে এসব কাজের সংশ্লিষ্টরা বলছেন অনুমোদন নিয়ে ড্রেজার পরিচালনা করা হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, এটি আমাদের বাপ-দাদার আমলের তিন ফসলি জমি। পাশের জমিতে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটায় এখন আমার জমিও ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। প্রভাবশালীরা উল্টো ভয়ভীতি দেখায়। আমরা এখন কোথায় যাব?
ভূমি আইন অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া কোনো কৃষি জমির শ্রেণী পরিবর্তন সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কিংবা বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটিয়ে লৌহজংয়ের বিভিন্ন এলাকায় অবাধে চলছে এই শ্রেণী পরিবর্তনের কাজ। কৃষিজমি ভরাট করে কোথাও হাউজিং প্রকল্প, আবার কোথাও বাণিজ্যিক প্লট তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই ড্রেজার সিন্ডিকেটগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হলেও জরিমানা বা পাইপ অপসারণের পর কয়েক দিনের মধ্যেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় অবৈধ কার্যক্রম। ফলে স্থায়ী ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা না থাকায় অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবিলম্বে অবৈধ ‘পকেট কাটা’, কৃষি জমির শ্রেণী পরিবর্তন এবং ড্রেজার বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তারা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে কৃষিজমি সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন,
এই অঞ্চলের উর্বর ফসলি জমি আমাদের অর্থনীতির ফুসফুস, আমাদের কৃষকদের বেঁচে থাকার অবলম্বন। কিন্তু কিছু লোভী, অসাধু চক্র আইনের তোয়াক্কা না করে, ড্রেজার বাণিজ্যের নামে আমাদের সোনার ফসল ফলানো জমিগুলোকে ধ্বংস করছে।
ড্রেজার সিন্ডিকেট যত শক্তিশালীই হোক, আইনের চেয়ে বড় কেউ নয়।তারা যাতে অবিলম্বে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করে। প্রশাসন যাতে এই অবৈধ ড্রেজার উচ্ছেদে নিয়মিত টাস্কফোর্স গঠন করে অভিযান চালায়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু বলেন, ড্রেজার বসানোর কোনো আইনি বৈধতা নেই। এই আইন পরিপন্থী কাজের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ##
Facebook Comments Box


এই ক্যাটাগরির আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর