শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
গোদনাইল এসও বাসষ্ট্যান্ডস্থ আল-আকসা মিনার জামে মসজিদে এমপি মান্নানের সুস্থ্যতা কামনায় যুবদল নেতা মিন্টুর উদ্যোগে দোয়া অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবসে নাসিক ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি’র পক্ষ থেকে মাসুম প্রধানের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবসে নাসিক ৬নং ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমীন মিন্টুর শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবসে নাসিক ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি’র পক্ষ থেকে সাংগঠনিক সম্পাদক মোর্শারফ হোসেনের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবসে নাসিক ৬নং ওয়ার্ড বিএনপি’র পক্ষ থেকে সালাউদ্দিন মিয়ার শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবসে মহানগর শ্রমিকদলের পক্ষ থেকে এস এম আসলামের শুভেচ্ছা বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নাসিক ৬নং ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমীন মিন্টুর শুভেচ্ছা বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নাসিক ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাংগঠনিক মোর্শারফ হোসেনের শুভেচ্ছা বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে না.গঞ্জ মহানগর শ্রমিকদলের পক্ষ থেকে আহবায়ক এস এম আসলামের শুভেচ্ছা শ্রীনগরে পুলিশের লুট হওয়া ৫০ শটগানের কার্তুজ উদ্ধার

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশরের বাতিল গোল নিয়ে ‘ষড়যন্ত্র’ তত্ত্বের কোনো ভিত্তি নেই

স্পোর্টস ডেস্ক / ১০২ বার পঠিত
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ন
Screenshot

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের মোস্তফা জিকোর বাতিল হওয়া গোল নিয়ে বিতর্ক এখনো থামেনি। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) হস্তক্ষেপে গোলটি বাতিল করার সিদ্ধান্তকে ভুল বলে মনে করছেন অনেক সাবেক রেফারি ও বিশ্লেষক। তবে একই সঙ্গে তারা স্পষ্টভাবে বলছেন, আর্জেন্টিনাকে জেতানোর জন্য কোনো ষড়যন্ত্র বা পরিকল্পিত সিদ্ধান্তের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। ম্যাচ শেষে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে জানায়, রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা ‘নীরব থাকতে পারে না’।

কী ঘটেছিল?

বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের ৫৮ মিনিটে। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ বাম দিক দিয়ে আক্রমণে উঠেছিলেন। মিশরের মারওয়ান আতিয়া ও মোহামেদ হানির চাপে পড়ে তিনি বলের নিয়ন্ত্রণ হারান। সেই মুহূর্তের প্রায় ১৭ সেকেন্ড পর মোস্তফা জিকো বল জালে পাঠান।
ভিএআরের ব্যাখ্যা ও বিতর্ক

ভিএআর প্রটোকল অনুযায়ী, গোলের আগে আক্রমণ গড়ে ওঠার পুরো ধাপ পরীক্ষা করা হয়। তবে ঠিক কোন মুহূর্ত থেকে সেই আক্রমণ শুরু হয়েছে, তা সব সময় স্পষ্ট নয়। সময় বা দূরত্বের নির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিসার্ডের সিদ্ধান্ত যুক্তিসংগত হলেও সেটিই একমাত্র ব্যাখ্যা ছিল না। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে একই ধরনের পরিস্থিতিতে অনেক সময় আক্রমণের সূচনা আরও পরের মুহূর্ত থেকে ধরা হয়।

আতিয়ার পায়ের সংস্পর্শ কি ফাউল ছিল?

বিতর্কের মূল বিষয় ছিল মারওয়ান আতিয়ার পা লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ের ওপর পড়া।

বিশ্লেষকদের মতে, কোনো খেলোয়াড়ের পায়ের ওপর পা পড়লেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফাউল হয় না। এই ঘটনায় আতিয়া স্বাভাবিক গতিতে প্রতিপক্ষের পাশে দৌড়াচ্ছিলেন এবং সরাসরি বলের জন্য ট্যাকল করেননি। অন্যদিকে মার্তিনেজও ভারসাম্য রক্ষার জন্য স্বাভাবিকভাবেই পা ফেলেছিলেন।

ফলে দুজনের পায়ের সংস্পর্শকে স্বাভাবিক শারীরিক সংঘর্ষ (Normal Contact) হিসেবে দেখা উচিত ছিল। এ ধরনের ঘটনা প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই ঘটে থাকে এবং সাধারণত ফাউল হিসেবে গণ্য করা হয় না।
গত মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে চেলসির বিপক্ষে ফুলহামের একটি গোল একই ধরনের ঘটনায় বাতিল হয়েছিল। ফুলহামের রদ্রিগো মুনিজ অনিচ্ছাকৃতভাবে ট্রেভোহ চালোবার পায়ে পা দিয়ে বলের দখল নেন, এরপর আক্রমণ থেকে গোল আসে।

পরে ইংল্যান্ডের রেফারিং প্রধান হাওয়ার্ড ওয়েবও সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেননি। বিশ্লেষকদের মতে, ওই ঘটনা এবং মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচ—দুটিই দেখিয়েছে যে ভিএআর কখনো কখনো অতিরিক্ত সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে এমন ফাউল খুঁজে বের করছে, যা বাস্তবে ফাউল নয়।

আরেকটি নজর এড়ানো সিদ্ধান্ত

গোল করার পর জার্সি খুলে উদযাপন করেছিলেন মোস্তফা জিকো। ফুটবল আইনে এটি হলুদ কার্ডযোগ্য অপরাধ। যদিও পরে গোলটি বাতিল হওয়ায় রেফারি লেতেক্সিয়ে তাকে কোনো কার্ড দেখাননি।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি ছিল বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করলে রেফারিই সমালোচিত হতে পারতেন।

ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নিয়ে কী বলা হচ্ছে?

ম্যাচ শেষে মিশরের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দাবি করেন, ফিফা নাকি আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলতে চায় এবং লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপ তুলে দেওয়ার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এমন অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

তাদের বক্তব্য, বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনকারী রেফারিরা প্রতিদিন ম্যাচের ভিডিও বিশ্লেষণ করেন, বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন এবং সর্বোচ্চ মান ধরে রাখার চেষ্টা করেন। শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেদের প্রস্তুত রাখতেও তারা কঠোর পরিশ্রম করেন। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচের ফল নির্ধারণ করতে তারা মাঠে নামেন—এমন ধারণা বিশ্বাসযোগ্য নয়।

ভুল হতে পারে, কিন্তু সেটি ষড়যন্ত্র নয়

বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ পর্যায়ের রেফারিদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত দেওয়ার চেষ্টা। ভুল অবশ্যই হয় এবং কখনো সেই ভুল বড় দল বা শক্তিশালী দেশের পক্ষে যায়।
তবে একই বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড (ব্রাজিলের বিপক্ষে), সেনেগাল (ফ্রান্সের বিপক্ষে) এবং প্যারাগুয়ে (জার্মানির বিপক্ষে) বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সুবিধাও পেয়েছে।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেও প্রায় প্রতিটি দলই মনে করে রেফারিদের ভুলের কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলাও একাধিকবার রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যদিও ওই সময়েই সিটি সাত মৌসুমের মধ্যে ছয়বার লিগ শিরোপা জেতে।

সবকিছু বিবেচনায় বিশ্লেষকদের মতামত, মিশরের গোলটি বাতিল করা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল এবং গোলটি বহাল থাকা উচিত ছিল। তবে সেই ভুলকে কেন্দ্র করে বিশ্বকাপের ফল নির্ধারণে কোনো পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করার মতো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই। রেফারিরা ভুল করতে পারেন, কিন্তু তারা সচেতনভাবেই ম্যাচের ফল বদলে দেন—এমন দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সূত্র: দ্য অ্যাথলেটিক

Facebook Comments Box


এই ক্যাটাগরির আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর